|
Sunday, 02 November 2008 19:19 |
|
বাংলাদেশের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তির সমগ্র ময়দান জুড়ে চলছে সংঘাত। সে সংঘাত নিছক সভা-সমাবেশ, লেখা-লেখি ও রাজনৈতিক দলাদলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, নির্মম হত্যাকান্ডও ঘটাচ্ছে। দেশের সেকুলার পক্ষটি এ হত্যাকান্ডকে আরো তীব্রতর ও রক্তাত্ব করতে চায়। তারা দাবী তুলেছে, একাত্তরের ন্যায় আরেকটি যুদ্ধের। অভিন্ন দেশ, অভিন্ন ভাষা, অভিন্ন খাদ্য-পানীয় ও জলবায়ুর দেশ বাংলাদেশ। জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী মুসলমান। খোলাফায়ে রাশেদার আমলেও মুসলমানগণ মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯০ ভাগ ছিল না। নানা ভিন্নতায় ভরপুর প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বহু দেশ। প্রশ্ন হল, এতটা অভিন্নতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে কেন এ বিরামহীন সংঘাত? কারণ একটিই| ভাষা, বর্ণ ও পোষাকপরিচ্ছদে এক হলেও এক নয় চেতনা, জীবনবোধ ও দর্শন।
|
|
Read more...
|
|
বাংলাদেশ
|
|
একাত্তরের পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি ভারতের দাবীদাওয়া ও আব্দার যেন ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। ২৩ বছরের পাকিস্তান আমলে যে দাবীগুলো তারা মুখে আনতে সাহস পায়নি এখন তা নিয়ে বাংলাদেশের উপর অবিরাম চাপ সৃষ্টি করে চলেছে। পাকিস্তান আমলে তারা বেরুবাড়ির দাবী করেনি, কিন্তু একাত্তরে শুধু দাবিই করেনি, ছিনিয়েও নিয়েছে। এবং সেটি মুজিবের হাত দিয়ে। প্রতিদানে কথা ছিল তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশকে দিবে। কিন্তু সেটি দেয়নি। আঙরপোতা, দহগ্রামের ন্যায় বহু বাংলাদেশী ছিটমহল এখনও ভারতের কাছে জিম্মি। ভারত সেগুলিতে যাওয়ার করিডোর দিতে নারাজ। এখন তারা জোরে সোরে চাইছে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট যা দিয়ে তারা পূর্ব ভারতের প্রদেশগুলিতে যাবে। এটি চাইছে প্রতিবেশীর প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার দোহাই দিয়ে। অথচ এমন সহযোগিতা কোন কালেই তারা প্রতিবেশীকে দেয়নি।
|
|
Read more...
|
|
Friday, 15 April 2005 00:00 |
|
আমাদের ব্যর্থতার কারণ অনেক। তবে অন্যতম কারণ, আল্লাহর সেরা সৃষ্টি মানুষকে আমরা তুচ্ছ জ্ঞান করেছি। এমনকি সকল সমস্যার মূল কারণ রূপে দেশের জনসংখ্যাকে চিহ্নিত করেছি। এমন চেতনায় সবচেয়ে উপেক্ষিত হয়েছে জনসম্পদ উন্নয়ন। ফলে অবহেলিত হয়েছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। অথচ মানুষকে এমন তুচ্ছ ভাবা শুধু গোনাহই নয়, বড় রকমের গুনাহ। এ অপরাধ আল্লাহর সেরা সৃষ্টিকে অবজ্ঞা করার অপরাধ। এমন চেতনার কারণে সম্পদ পাচারের ন্যায় মেধা পাচারও তুচ্ছ মনে হয়েছে। আল্লাহর যে সৃষ্টি সোন-রুপা, তেল-গ্যাসের চেয়েও মহামূল্যবান তাকে আমরা চা-পাট বা হিমায়িত মাছের ন্যায় পণ্য রূপে অতি সস্তা মূল্যেবিদেশীদের হাতে তুলে দিয়েছি। এবং ভাবছি এতেই আমাদের বৈদেশিক মূদ্রা প্রাপ্তি ঘটবে এবং দেশও সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকেই আমরা একাজ করে আসছি। ফলে বিপুল ভাবে বেড়েছে মেধা পাচার। যারা অপেক্ষাকৃত যোগ্যবান ও প্রতিভাবান তারা এভাবেই আমাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। ফলেদেশে জনসংখ্যা বাড়লেও কমছে মেধাবী ও দক্ষ মানুষের সংখ্যা। অথচ যেকোন উন্নত দেশ, বিদেশ থেকে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদই সংগ্রহ করে না, সংগ্রহ করে মেধাও। (বিস্তারিত)
|
|
বাংলাদেশের বিপদের কারণ নিছক বন্যা বা প্লাবন নয়। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টিও নয়। সম্পদের অপ্রতুলতাও নয়। মূল বিপদ, দূর্নীতির প্লাবন। দেশ ডুবছে মানবসৃষ্ট এ মহাদূর্যোগে। প্লাবনের পানি বিলম্বে হলেও নেমে যায়। ভিটা প্লাবিত হলেও বিবেক সুস্থ্য থাকে। সম্পদ হারালেও মানুষ এতে মনুষত্ব হারায় না। কিন্তু দূর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি পশুর চেয়েও অধম। পশু বাসে, গাড়ীতে বা দোকানে আগুন দেয়না। ধর্ষণও করে না। দেশের তলাও ধসিয়ে দেয় না। কিন্তু মানবেতর পশুরা যাত্রীভর্তি বাস পুরিয়ে দেয়। রাজপথে মানুষকে বিবস্ত্র করে। ধর্ষনে উৎসবও করে। আর বাংলাদেশে এসবই হ্চ্ছে। দূর্নীতিপরায়ন মানুষ এজন্যই নেকড়ের চেয়েও ভয়ংকর। যে সমাজে এমন মানুষের সংখ্যাধিক্য সে সমাজের পতন অনিবার্য। অন্য সব ব্যর্থতা জন্ম নেয় নৈতিক এ ব্যর্থতা থেকে। কিছু রাস্তাঘাট, কলকারখানা বা বৃহদাকার ব্রীজ নির্মিত হলেই দেশকে উন্নত বলা হয় না। ডাকাতের বাড়ীতে প্রাসাদ উঠতে পারে। সেও কি ভদ্রজন? তেমনি যে দেশ দূর্নীতিতে সকল দেশের শীর্ষে সে দেশে কিছূ রাস্তা-ঘাট, কল-কারখানা বা বিদেশী মূদ্রার সঞ্চয় বাড়লে বিশ্ববাসী কি উন্নত বলে? একটি জাতির উন্নয়নের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো জাতির নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন। দৈহিক বল বা আকারের কারণে মানুষ সৃষ্টির সেরা নয়। বহু পশু মানুষের চেয়ে বড় ও বলশালী। এটি সুস্পষ্ট যে, উন্নয়ন পরিমাপের যতগুলো মাপকাটি আছে তার সবগুলোর বিচারে বাংলাদেশ আজ শুধু ব্যর্থই নয়, সংকটাপন্ন। এ ব্যর্থতা যে সূক্ষ বা মামূলী তাও নয়। ঘরে আগুণ লাগলে বা প্লাবনের পানি ঘরে ঢুকলে অন্ধ, বৃদ্ধ, শিশু এমনকি ঘুমন্ত ব্যক্তিও যেমন টের পায় তেমনি বাংলাদেশের ব্যর্থতা টের পাচ্ছে দেশটির সর্ব পর্যায়ের মানুষ। (বিস্তারিত)
|
|
|
Saturday, 25 October 2008 22:53 |
|
জাতীয় জীবনে মূল ইঞ্জিন হল রাজনীতি। এ ইঞ্জিনই জাতিকে সামনে টানে। এবং সে সামনে চলাটি কোন পথে হবে -নিছক বৈষয়ীক উন্নয়ন না নৈতিক ও সার্বিক মানবিক উন্নয়নের পথে- সেটি নির্ভর করে এ ইঞ্জিনের চালকদের উপর। কোন একটি জাতির ব্যর্থতা দেখে নিশ্চিত বলা যায়, সে জাতির রাজনৈতিক নেতারা সঠিক ভাবে কাজ করেনি। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলতঃ সেটিই ঘটেছে। একটি দেশের উন্নয়ন বা সুখ-সমৃদ্ধির জন্য জরুরী নয়, সেদেশের জলবায়ু, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক সম্পদে বিপুল বিপ্লব আসতে হবে। বরং বিপ্লব আনতে হয় নেতৃত্বে এবং সেদেশের রাজনীতিতে। রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পায় পথ-নির্দেশনা, রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে পায় অনুকরণীয় মডেল খুজে পায়। আলেকজান্ডারের আমলে গ্রীস যখন বিশ্বশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ তখন গ্রীসের জলবায়ু, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক সম্পদে কোন পরিবর্তন আসেনি।
|
|
Read more...
|
|
পশুর জীবনে সফলতা নিছক দৈহিক ভাবে বাঁচায়। মনুষ্য জীবনের সফতা তার মানবতায়। সংখ্যায় বিপুল ভাবে বেড়ে উঠা দিয়ে তাই একটি জাতির মর্যাদা বাড়ে না। তবে মুসলমানের ক্ষেত্রে সফলতার এ মাপকাঠি আরো ব্যপক এবং ভিন্নতর। তাকে বাঁচতে হয় আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণাঙ্গ অনুসারি হয়ে। নইলে তার সমগ্র বাঁচাটাই বৃথা। প্রশ্ন হল, বাংলাদেশের মুসলমানদের এক্ষেত্রে সফলতা বা বিফলতা কতটুকু? উন্নয়ন পরিমাপের যতগুলো মাপকাঠি আছে সেগুলির বিচারে বাংলাদেশ এক ব্যর্থ রাষ্ট্র। সংঘাতময় রাজনীতি, মেরুদন্ডহীন অর্থনীতি, বিধস্ত শিল্প, দূর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, অকার্যকর শিক্ষা, ভেসে যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা - সবকিছুই এ ব্যর্থতার প্রমাণ। পঞ্চাশ বছর পূর্বেও অবস্থা এমনটি ছিল না। বিজন মরু বা গভীর জঙ্গলের পথহারা পথিক যেমন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় তেমনি অবস্থা বাংলাদেশেরও। অথচ এ জাতির কাছে মুক্তির নির্ভূল পথ ছিল। সেটি হল আল্লাহর দেওয়া রোড ম্যাপ। এটিই শরিয়ত। বান্দাহর কল্যাণে মহান আল্লাহর এটি সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। কিন্তু অজ্ঞতা ও ইসলামে অঙ্গিকারহীনতার কারণে আল্লাহর এ শ্রেষ্ঠ নিয়ামতটির প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতাও এক্ষেত্রে কম নয়। বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত নামাযী নেই, এত মসজিদ-মাদ্রাসাও নেই। নেই এত আলেম-উলামা। বাংলাদেশের আলেম-উলামাদের সংখ্যাই খোলাফায়ে রাশেদার আমলের মুসলমানদের চেয়ে অধিক। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, ৯০ ভাগ মুসলমানের এ দেশটিতে শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত নেই। অথচ শরিয়ত হলো সিরাতুল মোস্তাকিম। এটির প্রতিষ্ঠিত না থাকার অর্থ, সঠিক পথ ছেড়ে বিপদসংকূল জঙ্গল দিয়ে পথ চলা। (বিস্তারিত)
|
|
বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে বিতর্ক নেই। শয্যাশায়ী রোগী পচনে পচনে যখন দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন সে রোগ শুধু ঘরের লোকই নয় প্রতিবেশীও টের পায়। বাংলাদেশের বেলায় সেটিই ঘটেছে। দেশটির পচন মূলতঃ নৈতিক। সে নৈতিক পচনের বড় আলামত হলো দূর্নীতি। দূর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশের পরিচিতি আজ বিশ্বময়। নানা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়নের মডেল রূপে যেখানে আলোচিত হয় জাপান, কোরিয়া বা সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ সেখানে ব্যর্থতার মডেল। অতিশয় বিশাল হয়েও ডায়নোসর যেমন বিশ্ব থেকে হারিয়ে গিয়ে ইতিহাস গড়েছে তেমনি বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষের বিশাল জনগোষ্ঠি ইতিহাস গড়েছে দ্রুত নীচে নামায়। দেশটি সবচেয়ে তলায় নেমেছে দূর্নীতিতে বিশ্বে প্রথম হয়ে। কিন্তু প্রশড়ব হলো কেন এ ব্যর্থতা? অনেকেই ভাবেন এ ব্যর্থতার মূল কারণ বিশাল জনসংখ্যা। বাংলাদেশের প্রশাসন মূলতঃ এ মতের ধারকদের দখলে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যসব উনড়বয়নপরিকল্পনার চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় জন্মনিয়ন্ত্রণকে। তাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প বা কৃষির গুরুত্ব বুঝাতে ঘরে ঘরে কোন সরকারি কর্মচারির পদধুলি পড়ে না। কিন্তু কনডম বা জননিয়ন্ত্রন বড়ি হাতে প্রতিমাসে প্রতি ঘরে কেউ না কেউ পৌঁছবেই। বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে স্বচ্ছল বিভাগ হলো এটি। বিদেশী ঋণদাতাদেরও সর্বাধিক নজর এ বিভাগটির উপর। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এ অবধি যত বিদেশী অর্থ এ বিভাগটি পেয়েছে আর কোন বিভাগ তা পায়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বিণিয়োগ ও এত মেহনতের পরও দেশ কি সামনে এগিয়েছে? (বিস্তারিত)
|
|