|
Written by Shamim
|
প্রিয় ভাই ফিরোজ মাহবুব কামাল, আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন। আপনার ওয়েব সাইটে সর্বশেষ সংযোজন কে এম আমিনুল হকের লেখা "আমি আলবদর বলছি" পড়লাম। ইতিপূর্বে আপনার "একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস" সহ প্রফেসর সাজ্জাদ হোসাইনের "একাত্তরের স্মৃতি" এবং প্রফেসর মুমিন চৌধুরির "Behind The Myth of 3 Million" বইগুলিও পড়েছি। সবগুলি বই খাটি তথ্য নির্ভর এবং অসাধারণ যুক্তি সমৃদ্ধ। যতই পড়ছি ততই হতবাক হয়ে যাচ্ছি বর্তমান সময়ের মিথ্যার জয়জয়কার দেখে। আমি স্বাধীনতাপন্থিদের লেখা ইতিহাসও পড়েছি। কিন্তু তাদের লেখায় পাকিস্তান এবং পাকিস্তান পন্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও বিষদগার ছাড়া তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। ঐতিহাসিক মান ও সমসাময়িক যুক্তির নিরিখেও সেগুলো আলচ্য বইগুলোর আশে-পাশে আসার যোগ্য নয়। কিন্তূ তারপরেও সত্যের এই পরাজয় কেন? আপনার কি মনে হয় জানিনা, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে যারা মিথ্যা প্রপাগান্ডার শিকার তাদের সীমাহীন অযোগ্যতা ও একাগ্রতাহীনতাই আজকের এই অবস্থার জন্য দায়ী। অবাক হই বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর স্বাধীনতাত্তোর ভুমিকা দেখে। তাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে প্রপাগান্ডা চলেছে এবং চলছে। তারা এত আন্দোলন-সংগ্রাম করে, অথচ এই সত্য কথাগুলো আমরা নতুন প্রজন্মদের সামনে কখোনও তুলে ধরার চেস্টাই করেনি। আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই তথ্যগুলো যদি আমাদের কাছে না আসত তাহলে এই সত্য কখনোও জানতামই না। (মুলতঃ আপনার লেখা "একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস" বইটি পড়ে এই জাতির ইতিহাস জানার প্রচন্ড আগ্রহ সৃষ্টি হয়।) এই আমি কিছুদিন আগ পর্যন্তও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অহরহ দাবী করতাম একাত্তরে তাদের ভুমিকার জন্য জাতির কাছে মাফ চাইতে। অথচ এখন আমার মনের অবস্থা এই যে, ভবিষ্যতে যদি আবার কখোনও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় তবে পরিণতির কথা না ভেবেই ঐ একই ভুমিকা নেওয়া উচিত যা তারা একাত্তরে নিয়েছিল।
যাইহোক আমার বিশ্বাস এই অবস্থা একদিন থাকবে না। তার প্রমাণ আজকের এই বইগুলো। আমি মনে প্রাণেই বিশ্বাস করি তথাকথিত জাতির পিতাকে ইতিহাস একদিন মিরজাফরের কাতারে দাঁড় করাবেই। তার চিহ্ন ইতিমধ্যে ফুটে উঠা শুরু হয়েছে। আমি বাংলাদেশকে এখনও কিছুটা স্বাধীন মনে করি। তবে সে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে, তথাকথিত ষোলই ডিসেম্বর নয়।
এখন আসি কিছু গুরুত্বপুর্ণ কথায়। "Behind The Myth of 3 Million" এবং "The Wastes of Time" বইগুলি যারা উচ্চ শিক্ষিত এবং ইংরেজিতে সাহিত্য পড়ার অহরহ অভ্যাস আছে তাদের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষিতরা এখনও সেই মানে পৌছায়নি। তাই ঐ বইগুলি বাংলা অনুবাদ বের করা যায় কিনা আপনাকে অথবা আপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আর "একাত্তরের স্মৃতি" বইটি চতুর্থ অধ্যায় পর্যন্ত পড়ে থেমে আছি এবং অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি আপনি বাকী অধ্যায় গুলো কবে সংযোজন করবেন। কবে নাগাদ বাকী অধ্যায় গুলো সরবরাহ করতে পারবেন অগ্রীম জানালে খুশি হব।
আপনার মাধ্যমে আমার হৃদয় নিংরানো সালাম ও শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় ভাই কে. এম. আমিনুল হককে। তিনি যদি তার বাকি বইগুলো শিঘ্রই আপনার ওয়েব সাইটে সরবরাহ করতেন তবে আমরা যার পর নাই উপকৃত হতাম।
পরিশেষে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এই বলে প্রার্থনা করি, আপনি এবং সংশ্লিষ্টরা যেন আরও অধিক দিন বেঁচে থেকে মুসলিম জাতির এই মহান খেদমতে আন্জাম দিতে পারেন। আমিন।
ইতি, আপনার দ্বীনি ভাই শামীম কোরিয়া থেকে।
|