Bookmark and Share
Home eBook অধ্যায় ১১: রক্তপাত হয়েছে তিনটি পর্যায়ে

eBook Collection

সর্বাধিক পঠিত

অধ্যায় ১১: রক্তপাত হয়েছে তিনটি পর্যায়ে
একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস
একাত্তরের রক্তপাত হয়েছিল তিনটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায়টি শুরু হয় আওয়ামী লীগ ও ন্যাপের কর্মী বাহিনীর হাতে। কথা ছিল, ১৯৭১এ মার্চের তিন তারিখে জাতীয় সংসদের বৈঠক বসবে ঢাকায়। ইয়াহিয়া খানের সরকার চাচ্ছিল সংসদে বৈঠক বসার আগে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে নেতাদের মাঝে কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত্য হোক। কিন্তু তা হয়নি। সেটি অসম্ভব হয়ে পড়েছিল ভুট্টো ও মুজিবের আপোষহীন মনভাবের কারণে। নির্বাচনে বিজয়ের পরই আওয়ামী লীগের ছাত্রফ্রন্ট ছাত্রলীগ ইতিমধ্যেই স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা বানিয়ে তা দেশজুড়ে লটকানোর ব্যবস্থা করেছিল। প্রচন্ড প্রস্তুতি চলছিল পাকিস্তান ভাঙ্গার এবং সে লক্ষ্যে একটি প্রচন্ড যুদ্ধের। ১৯৭০এর নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মূল দায়িত্ব ছিল একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবের তা নিয়ে কোন মাথাব্যাথা ছিল না। ফলে ভূট্টো, ইয়াহিয়া খান বা পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য নেতাদের সাথে তাদের আলোচনায় তাদের সামান্যই আগ্রহ ছিল। মুজিব তার অবস্থানে অনড় থেকে দিনের পর দিন আলোচনায় বসছিল। বিফল আলোচনার দায়ভার চাপাচ্ছিল সরকারের উপর। অপর দিকে সে সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর ক্যাডাররা দেশজুড়ে অতিদ্রুত সংঘটিত হচ্ছিল এবং সে সাথে লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্ব গোপন সেল গঠন করা হয়েছিল বহু বছর আগেই। সে সময় নানা স্থানে অবাঙ্গালীদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঘরবাড়ীর উপর হামলা হচ্ছিল। তারা হত্যায় সফল হয়েছিল এমনকি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকেও। অবশেষে আলোচনা বিফল হল। ঢাকা থেকে ফিরে গেল ভূট্টো। ২৫শে মার্চ রাস্তায় নামে সামরিক বাহিনী। তখন শুরু হয় হত্যাকান্ডের নতুন পর্ব। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা বা ক্যান্টনমেন্ট আছে এমন শহর গুলোর উপর দখল জমালেও অধিকাংশ মফস্বল জেলা ও মহকুমা শহর আওয়ামী লীগ বাহিনীর দখলে চলে যায়। ঢাকাতে সামরিক অ্যাকশনে বহু বাঙ্গালী নৃশংস ভাবে মারা যায়। কিন্তু মফস্বল শহরগুলোতে সামরিক বাহিনী পৌছতে পারিনি। ফলে বিভিষিকা নেমে আসে সেখানে অবস্থানরত অবাঙ্গালীদের উপর। এমন কি মফস্বল শহরগুলোতে সে সময় যে সব পাকসেনা ছিল তারা সবাই মারা পড়েছিল।যেমন কুষ্টিয়ায় তারা ঘেরাও হয় ইপিআর ও পুলিশের সশস্ত্র সেপাইদের দ্বারা। তাদের সবাইকে উৎসবভরে হত্যা করা হয়।রাতে দুয়েক জন পালিযে যশোর সেনানিবাসে যাবার পথে তারাও মারা যায়। হত্যা করা হয় মফস্বল শহরে কর্মরত বহু পশ্চিম পাকিস্তানী সিভিল সার্ভিস অফিসারকে। সে সাথে চলছিল বিহারিদের মারার উৎসব। কু্ষ্টিয়া শহরের বহু বিহারিকে হত্যা করে পাশের গড়াই নদীতে ফেলা হয়। পাকশি ও ভেড়ামারার শত শত বিহারীকে হত্যা করে হার্ডিন্জ ব্রিজের নীচে পদ্মা নদীতে ফেলা হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বৃহত্তর দল মফস্বল শহর গুলিতে পৌঁছা শুরু করে এবং শহরগুলিকে আবার দখলে নেয়া শুরু করে। কিন্তু আসার পথে স্থানে স্থানে অবাঙ্গালীদের শত শত পচা লাশের দৃশ্য তাদের নজরে পড়ে। এর ফলে ভয়ানক বীরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় পাক সেনাদের মনে। সেটি প্রকাশ পায় পরবর্তী শহরের উপর তাদের সামরিক এ্যাকশনে। যে শহরই তারা দখল করছিল, সে সব শহরের উপর এলোপাথারি ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। যেমন লেখকের নিজ জেলা-শহর কুষ্টিয়ায় অনেক ঘরবাড়ী ও দোকন-পাট জ্বালানো হয়। কে পাকিস্তানপন্থি আর কে পাকিস্তান বিরোধী সেটি পাক-বাহিনী দেখেনি। অনেক পাকিস্তানপন্থির ঘরবাড়ী যেমন পোড়ানো হয়, তেমনি হত্যা করা হয় অনেক পাকিস্তানপন্থিকেও। যেমন কুষ্টিয়ায় শহরে পুড়িয়ে দেয় জনাব জনাব এ্যাডভোকেট সা’দ আহমদের দ্বিতল বাড়ী ও গাড়ী। তিনি পাকিস্তানপন্থি ছিলেন ১৯৪৭-এর পূর্ব থেকেই। একসময় কুষ্টিয়া জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা পিস কমিটির সভাপতি। হত্যা করা হয় পাকিস্তানপন্থি ছাত্রসংগঠন ইসলামি ছাত্র সংঘের ঢাকা শহর শাখা ও ফরিদপুর জেলাশাখার সভাপতিকে। এরূপ বহু ঘটনা ঘটেছে। এসবই ছিল ঘৃণ্যতম অপরাধ। এসময় লুট-পাট ও হত্যাকান্ডে নামে প্রতিশোধ পরায়ন বিহারীরা -যারা ২৫ মার্চের পরপরই ব্যবসা-বাণিজ্য ও আপনজন হারিয়েছিল আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে। শুরুতে কোন কোন জেলায় পরাস্ত হলেও পাক বাহিনী একে একে সবগুলি জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। অপর দিকে শুরু হয় ভারত অভিমুখে উদ্বাস্তুদের মিছিল। সে সাথে ভারতের মাটিতে শুরু হয় মুক্তি বাহিনীর ট্রেনিং। আস্তে আস্তে সমগ্র দেশ প্রবেশ করে যুদ্ধাবস্থায়। তখন হতাহত হতে থাকে উভয়পক্ষই।


মুক্তিবাহিনীর হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিজ-কালভার্ট, সরকারি ভবন এবং সে সাথে সেগুলির পাহারাদানকারি রাজকারেরা। হামলা হতে থাকে সরকার সমর্থক শান্তিকমিটির গ্রামীন এলাকার নিরস্ত্র সদস্যদের উপর। বহু প্রবীণ মুসলিম লীগ কর্মী, পাকিস্তান আন্দোলনের বহু প্রবীণ কর্মী, জামায়াতে ইসলামের বহু সদস্য এবং বহু পাকিস্তানপন্থি আলেম ও সমাজকর্মী সে সময় মুক্তিবাহিনীর হামলায় নিহত হন। মোনায়েম খানের মত রাজনীতি থেকে বহু বছরআগে অবসর নেওয়া মুসলিম লীগের বহু বৃদ্ধ ব্যক্তিও মুক্তি বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণে বাঁচেন নি। আন্তর্জাতিক আইনে এগুলি ছিল যুদ্ধাপরাধ। অথচ আওয়ামী ক্যাডারদের কাছে এগুলো গণ্য হয় বীরত্বগাঁথা রূপে। তারা হত্যা করে এমন বহু ব্যক্তিকে যারা সক্রিয় ভাবে কোন রাজনীতির সাথেই জড়িত ছিলেন না। উদাহরণ স্বরূপ প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা মোস্তাফা আল মাদানীর নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। ইনি ছিলেন নবীজীর (সাঃ) বংশধর। মদিনা থেকে সুদুর বাংলায় এসেছিলেন নিছক আল্লাহর দ্বীনের তালীম দিতে। তার কর্ম ক্ষেত্র ছিল মূলতঃ ঢাকা ও তার আশেপাশের জেলাতে। কিন্তু মুক্তি বাহিনী তাঁকেও ছাড়েনি। ইসলামের চেতনাবাহী এরূপ বহু অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যুদ্ধকালীন সময়ে প্রাণ দিতে হয়। তাদের হত্যা করা হয় ঠান্ডা মাথায় এবং পরিকল্পিত ভাবে। সম্ভবতঃ এ হামলার লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশের মাটিতে ইসলামী চেতনা ও ইসলামের পক্ষের শক্তিকে নির্মূল করা। যে মূল্যবোধে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দাঙ্গার নামে আগুনে ফেলে মুসলিম নিধন ও বাবরী মসসিজদের ন্যায় মসজিদ ধ্বংসও উৎসবযোগ্য গণ্য হয়, সে অভিন্ন মূল্যবোধটি প্রচন্ড আকার ধারণ করে বাংলাদেশে।


হত্যাকান্ডের তৃতীয় পর্ব শুরু হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরাজয়ের পর। তখন বিহারি, রাজাকার, শান্তিকমিটির সদস্য, পাকিস্তানপন্থি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপর নেমে আসে ভয়ানক হত্যাকান্ড। একাত্তরে কোন পক্ষে কতজন এবং কাদের হাতে কত জন মারা গেল সে হিসাবটি জেনেবু্ঝেই নেয়া হয়নি। সে হিসাবটি নেওয়া হলে জানা যেত, বেশী হত্যাকান্ড ঘটেছিল কাদের হাতে। সম্ভবতঃ বেশীর ভাগ হত্যাকান্ড হয়েছিল আওয়ামী-বাকশালীদের হাতে, আর সে সত্যটি লুকাতেই হত্যাকান্ডের কোন রেকর্ডই রাখা হয়নি। বাস্তব চিত্রের কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। লেখকের নিজ গ্রামে একাত্তরে ৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ২জন নিহত হয় বিহারীদের হাতে। দুইজনই ছিল স্কুল ছাত্র। তাদের এক জন লেখকের সহোদর ভাই, আরেকজন তার ভাগিনেয়। অপর ২জন নিহত হয় মুক্তিবাহিনীর হাতে। তারা দুইজনই ছিল ভারতের পশ্চিম বাংলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে আসা মোহাজির। তাদের একজন ছিলেন খাদ্যবিভাগের থানা পর্যায়ের কর্মকর্তা। আরেকজন ছিল কৃষক। পাশের গ্রামে নিহত হয় একজন, সে ছিল রাজাকার। মারা যায় মুক্তি বাহিনীর হাতে। তার পাশের গ্রামে মারা যায় দুই জন। তারা ছিল সহোদর দুই ভাই, বড় ভাইটি ছিল অত্যন্ত মেধাবী সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনার্স পড়তো। দুই জনই ছিল রাজাকার। তাদেরকে হত্যা করে মুক্তিবাহিনী। তাদের পিতামাতা সন্তানদের লাশ আর খুজেঁ পায়নি। ১৬ই ডিসেম্বরের পর হাজার হাজার রাজাকারকে শুধু হত্যাই করা হয়নি, লুটপাট করা হয় তাদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বহু ঘটনা এমনও ঘটেছে, বাড়ীতে রাজাকারকে না পেয়ে তার নিরীহ পিতা ও ভাইদের হত্যা করা হয়েছে। মহম্মদপুর, মীরপুর, রংপুরের সৈয়দপুরসহ সারাদেশে বিহারীদের হাজার হাজার ঘরবাড়ি তখন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের দখলে চলে যায়। উচ্চসারির নেতাদের দখলে যায় ধানমন্ডি, গুলশান, কান্টনমেন্ট ও বনানীতে অবস্থিত অবাঙ্গালীদের বড় বড় বাড়ীগুলি। ফলে পরাজিত হওয়ার কারণে স্বভাবতই সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয় পাকিস্তানপন্থিদের। দুর্যোগ কালে আওয়ামী-বাকশালীদের প্রতিবেশী ভারতে পালানোর পথ খোলা থাকলেও, পাকিস্তানপন্থিদের তেমন কোন আশ্রয়স্থল ছিল না। তাদের জন্য সমগ্র দেশ পরিণত হয় নির্যাতন মূলক জেলখানায়। ইসলাম ও পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়ায় তাদের চরম কোরবানি দিতে হয় নিজেদের জানমাল, সহায় সম্পদ,চাকুরি-বাকুরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে। এমনকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্তানপন্থি শিক্ষকগণও হামলা থেকে রেহায় পায়নি।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. হাসান জামানের মত প্রখ্যাত ব্যক্তিগণও নৃশংস নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। হাত পা ভেঙ্গে তাদের রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়েছিল। এতটাই প্রহার করেছিল যে, তারা যে মারা যাবে, সেটি নিশ্চিত হয়েই তাদেরকে ফেলে রাখা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরস্ত্র অবাঙ্গালীকে তারা ঘর থেকে টেনে এনে হত্যা করে। দাফনের ব্যবস্থাও হয়নি। মানুষ যত অপরাধীই হোক, তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর হলেও তার লাশটি আপনজনদের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বট থেকে যায়। অথচ সে দায়িত্ব পালিত হয়নি। অনেকের লাশই নদীর চরে কুকুর-শৃগালের খোরাক হয়েছে। যাদেরকে তখন এভাবে হত্যা করা হয়েছে তারা ছিল নিরস্ত্র। কথা হলো, নিরস্ত্র মানুষের সাথে এমন আচরণ কতটা মানবিক? এটি তো যুদ্ধাপরাধ। অথচ আওয়ামী স্যেকুলার বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা রচিত ইতিহাসে এমন যুদ্ধাপরাধের সামান্যতম উল্লেখও নেই। তাদের সে যুদ্ধাপরাধের শিকার হয়ে কয়েক লক্ষ অবাঙ্গালী আজও নর্দমার পাশে ঝুপড়িতে বসবাস করছে। তাদের সে করুণ অবস্থা দেখে যে কোন সুস্থ্য বিবেকে ঝাঁকুনি লাগাতর কথা। ভারতের হিন্দুদের তাড়া খেয়ে যখন তারা নিঃস্ব হাতে পাকিস্তানে এসেছিল তখনও তাদের অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। বিদেশীরা তাদের নিয়ে বই লেখে, ফিল্ম বানায়, সাহায্যও পাঠায়। কিন্তু বাঙ্গালীরা তাদের জবরদখল করা ঘর-বাড়ীগুলো ছাড়তে রাজী নয়। যে জাতির বিবেক দূর্নীতিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়া নিয়ে ব্যস্ত তাদের বিবেক কি সে কাজে সাড়া দেয়?


বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তির ময়দান মূলত ইসলাম বিরোধীদের দখলে। সে দখলদারি ১৯৪৭এর পূর্বে আংশিক ভাবে হলেও সেটি বলবান হয় ১৯৪৭ এর পর। মুসলিম লীগের নেতাকর্মীরা যখন রাজনৈতিক বিবাদে লিপ্ত, ১৯৪৭-এর পরাজিত শক্তি তখন বু্দ্ধিবৃত্তির ময়দান দখলে নেওয়া নিয়ে ব্যস্ত। আর একাত্তরের পর তাদের কোন প্রতিদ্বন্দিই থাকেনি। তখন ইতিহাস রচনার নামে তারা চালিয়েছে ইচ্ছামত মিথ্যাচার। নিজপক্ষের অতিশয় দুর্বৃত্ত নেতাদেরকেও বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি রূপে চিত্রিত করেছে। অপর দিকে ইসলামপন্থিদের চিত্রিত করেছে খুনি, চরিত্রহীন ও জঘন্য যুদ্ধাপরাধী রূপে। তাদের মিথ্যাচার এতটাই সীমাহীন যে, যুদ্ধে তাদের মূল সহায়তা দানকারি ভারতের অবদানকেও তারা এখন অস্বীকার করছে। বলছে, পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করেছে মুক্তিবাহিনী। অথচ সত্য হল, ভারতীয় বাহিনী সেদিন নিজেদের বিপুল অর্থ ও বহু হাজার মানুষের রক্তের খরচে পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করেছিল এবং পাকিস্তান বাহিনীকে পরাজিত করার পর কোলকাতার হোটেলে আরাম-আয়াশে ব্যস্ত প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতাদের হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় এনে ক্ষমতায় বসায়। কিন্তু সে ঐতিহাসিক সত্যকে তারা বাংলাদেশের ইতিহাস পুস্তক থেকেই বিলুপ্ত করেছে। এসব পুতুল নেতাদের বলা হয় স্বাধীনতার বীর সৈনিক রূপে। প্রতিছরের ১৬ই ডিসেম্বরের বিজয় দিনের অনুষ্ঠানে ভারতীয় বাহিনীর সে ভূমিকাকে মুখেও আনা হয় না। অথচ নয় মাসের যুদ্ধে যে মুক্তি বাহিনী পুরা বা আধা বাংলাদেশ দুরে থাক একটি জেলা শহরকেও অধিকারে নিতে পারেনি তাদেরকেই বিজয়ের মূল নায়ক রূপে হাজির করা হচ্ছে।


তবে এটি সত্য, উপমহাদেশে মুসলমানদের শক্তি খর্বকরণে এবং মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দুর্বল করতে শেখ মুজিব ও তার অনুসারিগণ যা করেছে ইতিহাসে তার তুলনা বিরল। এজন্যই মুসলিম দুষমন সকল ব্যক্তি ও শক্তির কাছে তিনি অতিশয় পুজনীয় ব্যক্তি।ভারতীয়দের কাছ এজন্যই তিনি এবং তার দল ও পরিবার এত প্রিয়। বাংলাদেশের ইসলাম বিরোধী ও ইসলামের চেতনাবিনাশী সকল ব্যক্তিবর্গ এজন্যই আওয়ামী লীগকে নির্দ্বিধায় ভোট দেয়। দলটিকে বিজয়ী করতে বিপুল অর্থ,পরামর্শ ও লোকবল জোগায়। অপরদিকে যারা বিশ্বে মুসলমানদের বিজয় ও গৌরব দেখতে চায়,এবং চায় বিশ্বশক্তি রূপে ইসলামের প্রতিষ্ঠা তাদের কাছে শেখ মুজিব ও তার দল যে অতিশয় ঘৃণিতশক্তি রূপে যুগ যুগ ধরে ধিক্কার পাবে তা নিয়েও কি সন্দেহ আছে? ফলে একাত্তরে যে রক্তাত্ব সংঘাত ও বিভক্তির জন্ম হল,সেটি কি সহজে দূর হবার?
Comments (1)
1 Sunday, 25 January 2009 08:12
A.H.M. Abdul Hamid Al-Faruky

my dear firoz mahboob kamal, thank you . may Allah bless you.



Bookmark this,
 
Banner