|
একটি জনগোষ্ঠি কতটা জীবন্ত, কতটা উন্নত বা কতটা সৃষ্টিশীল সেটির সবচেয়ে নির্ভূল পরিচয় ফুটে উঠে সে জনগোষ্ঠির মিডিয়া বা পত্রিকায়। বাজারের থলির দিকে তাকিয়েই বলা যায় সে পরিবারের লোকেরা কি খায় এবং কি তাদের রুচি। থলিতে কেনা সামগ্রীর মান ও পরিমাণ দেখেই বুঝা যায় সে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক সুস্থ্যতার মান। তেমনি একটি জনগোষ্ঠির মানসিক চাহিদা ও পুষ্টির পরিচয় মেলে তারা কি পড়ে বা সে এলাকার পত্রিকার কি ছাপা হয় সেটি দেখে। একটি জাতির শিক্ষা, সংস্কৃতি ও দর্শনের প্রতিবিম্ব হলো এটি। সমাজের সাধারণ মানুষেরা যা চায়, শিক্ষিত জনেরা যা ভাবে বা রাজনৈতিক ও সমাজকর্মীদের যা এজেন্ডা সেটিই ফুঠে উঠে মিডিয়ায়। তাই একই সমাজে বা একই দেশে বাস করেও দুটি ভিন্ন ধারার ও ভিন্নমানের জনগোষ্ঠির মিডিয়ার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও মান কখনই এক হয় না। কারণ তাদের মানসিক গঠনই এক নয়। শুধু প্রকাশিত খবর, সম্পাদকীয় বা নিবন্ধগুলিতেই নয়, সে পার্থক্য ধরা পরে এমনকি পত্রিকার বিজ্ঞাপণেও। ফলে বোধগম্য কারণেই সে পার্থক্যগুলী অতিশয় প্রকট বিলেতের বাংলা পত্রিকাগুলি ও এদেশের ইংরেজী পত্রিকার মাঝে। পত্রিকা একটি সমাজের অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটি ছাড়া একটি আধুনিক সমাজকে সামনে এগিয়ে নেওয়া অসম্ভব। সম্ভব নয় সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন সাধন। মিডিয়া শুধু খবরই পরিবেশন করে না, বরং খবরের পিছনে যে প্রেক্ষাপট থাকে সেটির বিশ্লেষণও করে। সমাজের অনেক অপ্রকাশিত বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। সমাজের সমস্যাগুলো কি, সমাধানই বা কি - সেগুলো সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরে। এ নিয়ে মানুষকে আন্দোলিত করে, সংঘবদ্ধ করে এবং সেগুলিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক এজেন্ডায় পরিণত করে। তাই যে সমাজে পত্রিকা নেই সে সমাজে সমাজ পরিবর্তনের লক্ষ্যে আন্দোলন নেই, রাজনৈতিক পরিবর্তনও নেই। একারণেই মিডিয়াহীন প্রাচীন সমাজে শত শত বছরের স্বৈরাচারি বর্বর রাজতন্ত্রও সম্ভব হয়েছে। বস্তুতঃ বিগত পঞ্চাশ বছরে জ্ঞানবিজ্ঞানে যে বিপ্লব এসেছে তা মানব ইতিহাসের বাকি বহু হাজার বছরেও হয়নি। এর কারণ পত্র-পত্রিকা বা মিডিয়া। মিডিয়া বা পত্রিকা শিক্ষাকে বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ থেকে ঘরের দুয়ারে নিয়ে গেছে। (বিস্তারিত)
Bookmark this,
|