Home আন্তর্জাতিক মৃত্যুশয্যায় এবার পুঁজিবাদ
আন্তর্জাতিক
মৃত্যুশয্যায় এবার পুঁজিবাদ
Sunday, 16 November 2008 20:54

মৃত্যু ঘটেছে সমাজবাদী বিশ্বশক্তি সোভিয়েত রাশিয়ার। সেটি গত শতাব্দীর শেষ দিকে। এবার মৃত্যুশয্যায় যুদ্ধাহত পুঁজিবাদ এবং সে মতবাদের প্রধানতম শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পুঁজিবাদ ও সমাজবাদ-উভয় মতবাদই প্রসব করেছিল সেকুলারিজম। মানব জাতির যত অকল্যাণ এ দুটি মতবাদের হাতে হয়েছে তা আর কোন ধর্ম,দর্শন বা মতবাদের হাতে হয়নি। দুটি মতবাদের জন্মে অভিন্ন উপাদান ছিল নিরেট ইহলৌকিকতা ও বস্তুবাদ। পুঁজিবাদের সাথে সমাজবাদের মূল বিবাদ রাজনীতির নিয়ন্ত্রন ও পুঁজির বন্টন নিয়ে, মানব বা সৃষ্টিকূলের সৃষ্টি-রহস্য নিয়ে নয়। বিবাদ নয় আখেরাতের অস্বীকার নিয়েও। উভয় মতবাদের অনুসরারিরাই দীক্ষা নিয়েছে ডারউনের বিবর্তনবাদ থেকে। সে বিবর্তনের ধারায় পশু-পাখী,মশা-মাছি ও বানর-শিম্পান্জীর ন্যায় মানুষও তাদের কাছে আরেক জন্তু মনে হয়। ফলে তাদের চেতনা-রাজ্যে গড়ে উঠেনি নিজেদের নিয়ে উচ্চতর মানবিক ভাবনা।

গড়ে উঠেনি মূল্যবোধের কোন উচ্চতর স্টান্ডার্ড। বাঘ-ভাল্লুক যেমন দূর্বল পশু শিকার করে,এ দু’টি মতবাদের অনুসারিরাও তেমনি মানুষ শিকার করে। এভাবে তাদের হাতে পশুকূলের রীতি নেমে এসেছে মানব সমাজে। তাই আফগানিস্তান জবর-দখলে ও সেদেশের নিরীহ মানুষের মাথায় হাজার হাজার টন বোমা ফেলতে সোভিয়েত রাশিয়ার বিবেকে যেমন বাধেনি,তেমনি বাধেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও। উভয় আগ্রোসনেই অবিকল এক অভিন্ন মূল্যবোধ কাজ করেছে। এমন একটি চেতনা যে শুধু শাসককূলে সীমাবদ্ধ তা নয়,সংক্রামিত হয়েছে জনগণের পর্যায়েও। ডাকাত সর্দার কি ভদ্র সমাজে প্রশ্রয় পায়? সে তো বেঁচে থাকে ডাকাতদের সমর্থণ নিয়ে। নির্বাচনে জর্জ বুশ বা ব্লেয়ারের ন্যায় অতি নিষ্ঠুর যুদ্ধাপরাধীও বিপুল ভোটে বিজয়ী হয় তো সে কারণই। এবং সে ঘোরতর যুদ্ধাপরাধকে অব্যাহত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিনেটর জন ম্যাকেনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শতকরা ৪৭ ভাগ ভোট পায়!মানবিক মূল্যবোধ যে কত বড় বিপর্যয়ের শিকার –এ হল তার প্রমাণ।


ডারউইনের বিবর্তনবাদ পরকালের ধারণা দেয়না। ধারণা দেয়না মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ও পরকালে জবাবদেহীতার। আর পরকালে জবাবদেহীতার ভয় না থাকলে শক্তিধরের অপরাধে বাধা থাকে কি? বনের পশুকূলের সে ভাবনা নেই। তাই শিকার ধরতে হিংস্র ও নিষ্ঠুর হওয়াটাই পশুর স্বভাব। একই রূপ নিষ্ঠুরতা নেমে আসে পরকালে অবিশ্বাসী সেকুলারিষ্টদের রাজনীতি,অর্থনীতি ও যুদ্ধ-বিগ্রহে। তারা যে শুধু মুনাফা বা ঘুষ আদায়ে নিষ্ঠুর তা নয়,অতিশয় নিষ্ঠুর নিরস্ত্র ও নিরীহ মানব হত্যায়ও। এরাই আবু গারিব,বাগরাম ও গোয়ান্তেনামোর জন্ম দেয়। ঢাকার রাস্তায় এরাই যাত্রী ভর্তি বাসে আগুন দেয়,লগি বৈঠা নিয়ে নিরীহ মুসল্লী হত্যায়ও নামে। এদের হাতে পোকা-মাকড়,মশা-মাছি বা কুকুর-শৃগাল হত্যার ন্যায় মানবহত্যাও তুচ্ছ মনে হয়। সমাজবাদী ও পুঁজিবাদী –সেকুলারিজমের ঔরসজাত এ দুটি শিবিরই মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধাস্ত্র আবিস্কার করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের “ফরেন এ্যাফেয়ার্স” জার্নালে বারাক ওবামার উপদেষ্টা আইভো ডালডার লিখেছেন,“বর্তমানে বিশ্বে ২৫,০০০ আণবিক বোমা রয়েছে। এবং বিশ্বের ৪০টির বেশী রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে ৩,০০০ টন ফিসাইল ম্যাটেরিয়াল যা দিয়ে আরো আড়াই লাখ আণবিক বোমা বানানো যায়।” মানব জাতির সমগ্র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী প্রানহানী ও সম্পদহানীও হয়েছে এই মতবাদের অনুসারিদের হাতে। দু’টি বিশ্বযুদ্ধে তারা ৭ কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে। কম্যুনিষ্ট নেতা জোসেফ স্টালিন নিজ দেশের বহু লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল নিছক রাজনৈতিক শত্রুতার কারণে। কম্যুনিষ্টদের হাতে শুধু রাশিয়াই নয়,পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোও পরিণত হয়েছিল জেলখানায়। সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল চেকস্লাভাকিয়া ও হাঙ্গেরীতে। আশির দশকে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে আফগানিস্তানে। বিশ্ববাসীর আনন্দ,সে রক্তদান বৃথা যায়নি। মৃত্যু ঘটিয়েছে একটি আগ্রাসী বিশ্বশক্তির। এভাবেই বিশ্ববাসীর মাথা থেকে অন্ততঃ একটি আপদ নেমেছে। মানব ইতিহাসের এ ঐতিহাসিক অবদানটি মূলতঃ আফগানিস্তানের জ্বিহাদের। জ্বিহাদ মানবজাতির যে কতবড় কল্যাণের সামর্থ রাখে এটি হল তারই প্রমাণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে দ্বিগুণ সময় নিয়ে চলেছিল এ জ্বিহাদ। দীর্ঘকালীন সে জ্বিহাদে লক্ষ লক্ষ মোজাহিদ আহত ও নিহত হয়েছেন,কিন্তু আত্মসমর্পণ করেননি। সে জ্বিহাদই রাশিয়ার বিপুল দেহে যে অর্থনৈতিক ক্ষত সৃষ্টি করে তা থেকে রক্তক্ষরণের ফলেই মৃত্যুঘটে সোভিয়েত রাশিয়ার। অথচ এ মতবাদের প্রবক্তা কার্ল মাক্স বলেছিলেন অন্য রকম। তিনি বলেছিলেন,পুঁজিবাদ বিলুপ্ত হবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায়। এবং বিশ্বজুড়ে প্রোলিতারিয়েতের নেতৃত্বে সাধিত হবে কম্যুনিষ্ট বিপ্লব। তিনি যে কতটা পথভ্রষ্ট বা বিভ্রান্ত ছিলেন সেটিই প্রমাণ করেছিল আফগানিস্তানের মোজাহিদরা;কোন পুঁজিবাদী দার্শনিক বা রাজনৈতিক নেতা নয়। কার্ল মাক্স জানতেন না তার নিজের জীবনে পরের দিন কি ঘটবে সেটি। কিন্তু বাণী শুনিয়েছেন সমগ্র মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে। অথচ সে সামর্থ তো একমাত্র মহান আল্লাহর। একমাত্র তিনিই আ’লিমুল গায়েব অর্থাৎ অজানা বিষয়ের জ্ঞানী। পথ দেখানোর দায়িত্বটিও কোন ব্যক্তির নয়,সে দায়িত্ব একমাত্র মহান আল্লাহর। তিনিই পবিত্র কোরআনে বলেছেন,“ইন্না আলাইনাল হুদা।” অর্থঃ “পথ দেখানোর দায়িত্ব নিশ্চয়ই আমার।” কার্ল মার্ক্স তাই সীমালংঘন করেছেন নিজ-সীমাবদ্ধতার,আবির্ভূত হয়েছিলেন ভবিষ্যত-বক্তা ও পথ-প্রদর্শকরূপে। মার্কসবাদ যে কতটা ভূয়া বা মিথ্যানির্ভর -সেটিই প্রমাণিত হল সোভিয়েত সোসালিষ্ট রিপাবলিক অব রাশিয়ার ব্যর্থতা,পরাজয় ও বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে।

 

একই রূপ ব্যর্থতা নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে পুঁজিবাদ। বিপুল রক্তক্ষরণ চলছে সমগ্র পুঁজিবাদী বিশ্বে বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সোভিয়েত রাশিয়ার চেয়েও অতি আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রটি আবির্ভূত হয়েছিল ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের আধুনিকতম পাহারাদার রূপে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫ বছরের যুদ্ধে ভয়ানক ভাবে দূর্বল হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদ। মৃত্যুশয্যায় পড়লে সিংহেরও শিকার ধরার সামর্থ থাকে না। তখন ধৃত-শিকারও ছেড়ে দিতে হয়। ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের সে দূর্দীনে পরাধীনতার শিকল থেকে তাই স্বাধীন হওয়ার সুযোগ পায় এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার অধিকাংশ দূর্বল দেশ। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সে দূর্দিনে হাল ধরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এবারের দূরাবস্থা গুরুতর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দেশটির যতটা না ক্ষতি হয়েছিল তার চেযে অধিক ক্ষতি হয়েছে ইরাক ও আফগানিস্তানের মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধ দুটি এবার মৃত্যুশয্যায় ফেলেছে পুঁজিবাদ এবং সে মতবাদের নেতৃস্থানীয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। ফল দাঁড়িয়েছে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে দায়গ্রস্ত দেশ, লোনের পরিমাণ তিন হাজার বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের সবগুলো রাষ্ট্রের সম্মিলিত লোনের চেয়েও এটি বহুগুণ অধিক। এ দায়গ্রস্ততার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বছর ইরাকে তাদের সামরিক ব্যয় ৪০% কমিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এতটা শক্তিহীন করতে পারেনি। বরং এ দেশটিই সেদিন বিধ্বস্ত ইউরোপের উদ্ধারে এগিয়ে এসছিল মার্শাল প্লানের ন্যায় বহু বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে। মার্শাল প্লানের আঁওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেদিন যা খরচ করেছিল তারা লোন পেয়েছে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী। কিন্তু তাতেও বিপদ ঘুঁচছে না দেশটির,বন্ধ হচ্ছে না অর্থনৈতিক রক্তক্ষরণ। বরং দিন দিন পুঁজি-সংকট গ্রাস করছে দেশের ব্যাংক, রিয়েল এস্টেট, শিল্প ও ব্যাবসায়ীক কোম্পানীগুলোকে। প্রকট ধ্বস নেমেছে শেয়ার বাজারে। জর্জ বুশ প্রশাসনের ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের বেইল আউট প্যাকেজের পরও শেয়ার বাজারের ধ্বস থামছে না। এ বিপর্যয় শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত থাকছে না, গ্রাস করছে গ্রেট ব্রিটেন,জার্মানী,জাপান,স্পেন,ফ্রান্সসহ সবগুলো পুঁজিবাদী দেশকে। চাকুরী,গৃহ ও চিকিৎসা লাভের সামর্থ হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।

 

ক্যারেন্সী নোটের উপর “উই ট্রাস্ট ইন গড” লিখলেই আল্লাহ বা গডের উপর অটল বিশ্বাস জাহির হয় না। অথচ ডলারের নোটের উপর সেটি লিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট তেমন একটি ধারণাই দিতে চেয়েছে। ব্যক্তির জীবন-বিশ্বাস বা দর্শন ধরা পড়ে তার আচরণ ও জীবন সাধনা থেকে। যে ব্যক্তি তার অর্থ,মেধা,শক্তি,সময় ও সামর্থের সিংহভাগ ব্যয় করে নিছক উপার্জন বাড়াতে তাকে কি ধর্মপ্রাণ বলা যায়? বলা যায় কি আখেরাত সচেতন? সে তো অর্থপুজারি। এমান ভোগবিলাসী ও অর্থপুজারি চরিত্র তো সেকুলারিষ্টদের। কারণ তাদের বাঁচবার মূল লক্ষ্য তো পার্থিব সুখের আয়োজনে অবিরাম সমৃদ্ধি আনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যারা ক্ষমতাসীন বা নীতি নির্ধারক তারা কি সেরূপ একটি পার্থিব স্বার্থেই নিজের ও সে সাথে দেশের সামর্থের বিণিয়োগ করেন না? এমন লোকদের কাছে অর্থ-সম্পদ গণ্য হয় আরধ্য খোদা রূপে। তারা লড়াই করে সে অর্থনৈতিক স্বার্থের সুরক্ষায়। যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি জাতীয় স্বার্থ আবিস্কার করে সমগ্র বিশ্বজুড়ে। এমনকি অন্যদেশের অভ্যন্তরেও। সেরূপ অর্থনৈতিক স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করছে বার বার। আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের মূল কারণও হল এটি। এ দু’টি যুদ্ধেরও শুরু মধ্যএশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের উপর দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে।

 

অথচ যারা ইবাদত করে মহান আল্লাহর,তারা অর্থপুজারী হয় না। অর্থের জন্য যুদ্ধও করে না। এমন যুদ্ধে প্রাণদানকে তারা অপচয় মনে করে প্রাণের। তারা যুদ্ধ লড়ে মহান আল্লাহর দ্বীন বা বিধানকে বিজয়ী করতে। লড়াই করে অন্যায়ের প্রতিরোধে ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায়। ঈমানদাদের এটিই শ্রেষ্ঠ ইবাদত। ইবাদতের সে প্রেরণাতেই সে ব্যয় করে নিছক শ্রম,সময় ও অর্থ নয়,নিজের অতি প্রিয় জীবনও। এমন ত্যাগের মধ্য দিয়ে সে খুঁজে আল্লাহর রহমত। প্রত্যাশা করে জান্নাতের। জনগণের এমন সম্পৃক্ততায় জ্বিহাদে ব্যয় কমে রাষ্ট্রীয় পুঁজির। অপরদিকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ ইবাদত হওয়ার কারণে জ্বিহাদে রক্তক্ষরণ যতই হোক তাতে শক্তিহানী হয় না। বরং প্রবল ভাবে বৃদ্ধি ঘটে ঈমানী শক্তির। বিশ বছরের যুদ্ধে আফগানিস্তানে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যুর পরও তাতে আফগান জ্বিহাদের মৃত্যু ঘটেনি,দূর্বলও হয়নি। সে জ্বিহাদে একটি বিশ্ব-শক্তির বিলুপ্তি ও আরেক বিশ্ব-শক্তি মৃত্যু-দশা হলেও প্রবল ভাবে শক্তি বেড়েছে তালেবান মোজাহিদদের। পুঁজিবাদ,সমাজবাদ ও জাতিয়তাদী যুদ্ধ থেকে ইসলামী জ্বিহাদের মূল পার্থক্য এখান থেকেই। জ্বিহাদ দীর্ঘকাল চললেও মুসলিম জাতি দূর্বল হয় না,এবং বিপন্ন হয় না রাষ্ট্র। পুঁজিবাদ,সমাজবাদ ও জাতিয়তাদী যুদ্ধ থেকে ইসলামী জ্বিহাদের মূল পার্থক্য তো এখানেই। নয় বছর যাবত প্রকান্ড যুদ্ধের পরও ইরানকে তাই বিদেশের কাছে দায়গ্রস্ত হতে হয়নি। বরং প্রবল ভাবে বৃদ্ধি ঘটেছে দেশটির সামরিক,অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তির। এমন কি সে শক্তির প্রভাব বেড়েছে দেশের বাইরেও। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও যুদ্ধ হযেছে শতাধিক। বস্তুতঃ যুদ্ধ লেগে থাকতো প্রায় প্রতি বছর। নবীজী (সাঃ)নিজে অংশ নিয়েছেন ৫০টির বেশী যুদ্ধে। কিন্তু এত যুদ্ধের পরও মুসলিম উম্মাহর শক্তিহানী হয়নি,বরং বৃদ্ধিই ঘটেছে লাগাতর। মুসলমানের শক্তিহানীর শুরু তো তখন যখন তারা যুদ্ধ-বিগ্রহে বিরতি দিয়েছে এবং বেছে নিয়েছে আত্মসমর্পনের পথ।

 

পুঁজিবাদের মৃত্যুর বীজ নিহিত তার নিজের মধ্যেই। দর্শনগত দিক দিয়ে এ মতবাদটি মানুষকে প্রচন্ড স্বার্থপর করে। সে স্বার্থ পার্থিব ভোগের বা দুনিয়াবি সাফল্যের। শক্তি,সময়,মেধা ও পুঁজির বিণিয়োগে সর্বক্ষেত্রে তার বিরামহীন লাভ বা মুনাফা চাই। কিছু দিলে সে পেতেও চায়। এখানে পরকালের প্রাপ্তী বলে কোন ধারণা নেই,প্রতীক্ষাও নেই। তাই যেখানে আনন্দ-সম্ভোগ,লাভ বা মুনাফা নাই সেখানে প্রাণদান দূরে থাক,সামান্যতম অর্থদান,শ্রমদান বা মেধাদানেও কোন পুঁজিবাদী স্বার্থ-শিকারীর আগ্রহ নেই। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি হল সে স্বার্থ শিকারের নতুন নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া। নিজদেশের পুঁজিপতিদের হাতে লাগাতর মুনাফা অর্জনের ক্ষেত্র তুলে দেয়া। নির্বাচনও হয় মূলতঃ সে ইস্যুতেই। ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কত লক্ষ আফগান বা ইরাকী মারা গেল সেটি কোন প্রসঙ্গ ছিল না। প্রসঙ্গ ছিল না আবু গারিব,বাগরাম বা গোয়ান্তনামোর বর্বরতার বিষয়গুলোও। বরং প্রসঙ্গ ছিল কতজন মার্কিনী চাকুরী হারালো,ডলার কতটা মূল্য হারালো বা কতটি মার্কিন কোম্পানী বন্ধ হল সেটি। একটি অর্থনৈতিক কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলসমৃদ্ধ ইরাককে দখলে নেওয়ার জন্য যুদ্ধ-শুরুটি এতটা জরুরী মনে করে। তাই জাতিসংঘ বা তার মিত্রদের নিষেধাজ্ঞায় তারা সামান্যতম ভ্রুক্ষেপও করেনি। সাদ্দামের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র তৈরীর যে অভিযোগ, সেটি ছিল ভূঁয়া –যা পরে প্রমাণিতও হয়েছে। ইরাকই ছিল একমাত্র আরব দেশ যে দেশের তেলকুপগুলির উপর মার্কিন তেল কোম্পানীর দখলদারি ছিল না। এর ফলে মার্কিন কোম্পানীগুলো বঞ্চিত হচ্ছিল মুনাফা থেকে। কোন দূর্বল দেশে সম্পদ থাকবে অথচ সে সম্পদের উপর মার্কিন দখলদারিত্ব থাকবে না সে তাদের কাছে অসহ্য। সে দেশটির দায়িত্ব হল মার্কিন প্রশাসনের কাছে আত্মসমর্পণ,অন্যথায় দূর্বল দেশটির সাহসী বিদ্রোহ চিত্রিত হয় সন্ত্রাস রূপে। আজ সেটিই ঘটছে ইরান,সূদান ও ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে। ইরানের বিরুদ্ধে তেমনি ঘটেছিল ১৯৫৬ সালে। তখন ইরানের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শরিফ মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের সাথে মিলে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটায়। জনাব মোসাদ্দেকেরও অপরাধ ছিল,তিনি পাশ্চাত্য তেলকোম্পানীগুলোকে জাতীয়করণ করেছিলেন এবং অসম্ভব করেছিলেন ইরানের মাটিতে মার্কিন কোম্পানীগুলোর লুন্ঠন-প্রক্রিয়া। স্বচ্ছল গৃহস্বামীকে নিরস্ত্র ও প্রতিরক্ষাহীন দেখার মধ্যেই দস্যুর আনন্দ। কারণ,তাতে দস্যুবৃত্তিটি সহজতর ও নিষ্কন্টক হয়। একই লক্ষে পুঁজিবাদী দেশগুলো দূর্বল দেখতে চায় এশিয়া-আফ্রিকা-ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোকে। সেটি নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিগত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এ পর্যন্ত নানা দেশে ৫০টিরও বেশী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। নানা রূপ ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কাজকর্মের মধ্য দিয়ে ধ্বংস করেছে ৩০টির বেশী মুক্তিযুদ্ধকে। ভূমির উপর নিরঙ্কুশ আধিপত্য বহাল করতে প্রায় নির্মূল করেছে আমেরিকার আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান। আফগানিস্তান ও ইরাকের মেরুদন্ড চূর্ণকরার কাজ এখনও অবিরাম ভাবে চলছে মূলতঃ সে লক্ষ্যেই। একই লক্ষ্যে তারা চায়,পাকিস্তান ও ইরানের আণবিক শক্তির বিনাশ। তৃতীয় বিশ্বের শিল্প ও কৃষিকে ধ্বংস করতে তারা নিজ-দেশের উৎপাদকদেরকে প্রতিযোগীতায় নামিয়েছে শত শত কোটি ডলার ভর্তুকী দিয়ে। প্রতিযোগী সে শিল্পটি ধ্বংসের পর আবার সূদে-আসলে সে ভর্তুকীর অর্থ তারা তুলেও নেয়। পুঁজিবাদী শোষণকে প্রতিযোগীতাহীন করতেই অধুনা জন্ম নিয়েছে পুঁজিবাদী কোম্পানীগুলোর বহুজাতিক কোয়ালিশন।

 

লাগাতর মুনাফা সৃষ্টির সুযোগ ছাড়া পুঁজিবাদ বাঁচতে পারে না। অপর দিকে লাগাতর যুদ্ধও তাদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। তখন লাভের গুড় পিঁপড়া খেয়ে নেয়। তখন বিপর্যয় সৃষ্টি হয় মুনাফার বাজারে। কারণ যুদ্ধ ও যুদ্ধজনিত নিরাপত্তার খরচও তখন উৎপাদন-খরচের সাথে যোগ হয়। ফলে বহুজাতিক কোম্পানীগুলো নিছক প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার স্বার্থে তৃতীয় দেশে কারখানা খুলছে। তাছাড়া পুঁজিবাদে রয়েছে সম্পদের বন্টনে চরম অব্যবস্থা। সম্পদ জমছে মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণীর হাতে। অপরদিকে আধিপত্যবাদী মানসিকতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায় দেশে বিণিয়োগে গুরুত্ব পাচ্ছে অস্ত্রনির্মান ও অস্ত্রের ক্রমাগত উন্নয়নে। ফলে উপেক্ষিত হচ্ছে বা প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না স্বাস্থ্য সেবা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গবেষণার ন্যায় বিষয়টিও। এভাবে উপেক্ষিত হচ্ছে পণ্যের লাগাতর উন্নয়ন। অথচ প্রতিযোগিতা মূলক বাজারে পণ্যের লাগাতর উন্নয়ন না ঘটালে উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকাই অম্ভব। ফলে একের পর এক মৃত্যু ঘটছে মার্কিন কোম্পানীর। ফলে দারিদ্র্য ও হতাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। পুজিবাদের মরণের বীজ তাই নিজের মধ্যেই। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেটিই হয়েছে। ফল দাঁড়িয়েছে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগীতার সামর্থ হারিয়েছে বিশ্ব-অর্থনীতির মূক্ত বাজারে। ফলে যে মূক্তবাজারের আওয়াজ তুলে পূঁজিবাদ বিশ্বব্যাপী লুন্ঠনে নেমেছিল এখন সেটিই তার মরণ ডেকে আনছে।

 

তবে পুজিবাদের অনিবার্য ধ্বংস আরেকটি কারণেও। পুঁজিবাদের দার্শনিক ভিত্তি সেকুলারিজমের উপর হওয়ায় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় তাদের ইহলৌকিক আনন্দ-সম্ভোগের আয়োজনে লাগাতর বৃদ্ধি ঘটানো। তাই শুধু পুঁজির বিণিয়োগে মুনাফায় বৃদ্ধি ঘটালেই চলে না। যে কোন রাষ্ট্রের জন্যই এটি এক কঠিন কাজ। পুঁজিবাদে অত্যাধিক পরিচর্যা পায় সেকুরারিজম বা ইহলৌকিকতা। আর এ ইহলৌকিকতায় ব্যক্তির মনে অত্যাধিক বৃদ্ধি পায় আনন্দ-সম্ভোগের নেশা। এমন সম্ভোগই তখন বাঁচার একমাত্র লক্ষ্য হয়। পরিসংখ্যাণে প্রকাশ,সম্ভোগের সে আয়োজন বাড়াতে গ্রেট ব্রিটেনের মত সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষের একটি দেশে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার)মদ বিক্রি হয়। বাংলাদেশের এক বছরের সমুদয় বাজেট বরাদ্দ থেকে এ অর্থের পরিমাণ কয়েক গুণ। বাংলাদেশের ১৫ কোটি মানুষ প্রতি বছর যে পরিমান খাদ্য গ্রহণ করে তার মূল্যও এত নয়। তাছাড়া কোন সমাজেই মদ্যপান একাকী আসে না,সাথে আনে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক ব্যাধী। পশ্চিমা বিশ্বে যত সড়ক-দুর্ঘটনা হয় তার বেশীর ঘটে মদ্যপানের কারণে। মদ্যপানের ফলে অকেজো হয়ে পড়ে লিভার,বাড়ে হৃদরোগ,বৃদ্ধি পায় রক্তচাপ। বাড়ে নানরূপ মানসিক অসুস্থ্যতা। এসব রোগভোগের কারণে গ্রেট ব্রিটেনের সরকারি স্বাস্থ্যখাতে প্রতিবছর খরচ হয় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া প্রতিটি ব্যক্তির চাই এমন চাকুরি যা দিয়ে শুধু খাওয়া-দাওয়া, পোষাক-পরিচ্ছদ ও বাসস্থানের খরচ জোগালে চলে না,প্রতিবছর দূর বিদেশে কয়েক সপ্তাহের ছুটি কাটানোর খরচও জোগাতে হয়। এটি নিছক ছুটি কাটানো নয়, বরং তা হল রীতিমত সেক্স-বিনোদন। এটি হল,কোন বন্ধু বা বান্ধবীকে নিয়ে বিদেশের বিলাসবহুল হোটেলে বা সমুদ্রসৌকতের কুটিরে আনন্দ-সম্ভোগে কাটানো। অনেকে সে সময়টা কাটায় বিদেশের পতিতা কুটিরে। এটিই এখন প্রতিষ্ঠিত পাশ্চাত্য সংস্কৃতি। পুজিবাদী দেশগুলোর নাগরিকগণ প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে এরূপ সেক্স টুরিজমে। সেক্স টুরিজমের বাজার রূপে গড়ে উঠেছে থাইল্যান্ডের মত বেশ কিছু দেশ। এরপর পুজিবাদী দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে ভাল গাড়ী,ফ্রিজ,টিভি,ওয়াশিং মেশিন,ভ্যাকুম ক্লিনারসহ নানারূপ সাজ-সরঞ্জামের চাহিদা। অথচ একই ধরাপৃষ্ঠে বাস করে তৃতীয় বিশ্বের নাগরিকগণ প্রতিদিন গড়ে দুই ডলারও রোজগার করতে পারে না। অর্থনৈতিক বৈষম্য যে কোন দেশেই বিপর্যয় ডেকে আনে। সংঘাত তো বৈষম্যেরই ফসল। এমন বৈষম্য বিশ্বব্যাপী তীব্রতর হলে তখন বিপর্যয়ও বিশ্বব্যাপী হয়। পুঁজিবাদ সেটিই বাড়িয়েছে। বিশ্বের অধিকাংস সংঘাতের জনক তো তারা। কথা হল,পাশ্চাত্য দেশের সরকারগুলো আর কতকাল তাদের নাগরিকদের আনন্দ-সম্ভোগ বাড়াতে এরূপ হাজার হাজার ডলার জোগাতে থাকবে? যেন এক তোঘলোগী ব্যাপার। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা মূলক ব্যবসা-বাণিজ্য করে কি এমন খরচ জোগানো যায়? যায় না বলেই এ জন্য প্রয়োজন পড়ে লাগাতর দস্যুবৃত্তি। অতীতে এমনি এক অভিন্ন প্রয়োজনে ইউরোপের ঔপনিবেশিক শক্তিবর্গ দখলে নিয়েছিল এশিয়া ও আফ্রিকার অধিকাংশ দেশ। তখন অধিকৃত দেশের কৃষি ও শিল্পকে ধ্বংস করা তখন তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল। সেসব দেশের মানুষদের দুর্ভিক্ষে রেখে আনন্দের আয়োজন বাড়াতো নিজ দেশে। এমন দস্যুরাই জনগণের পকেটে হাত দেয় ব্যবসায়ীর বেশে। তখন রাষ্ট্র পরিণত হয় পুঁজিবাদী দস্যুবৃত্তির সহায়তা দানকারি শক্তিরূপে। জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র থেকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের পার্থক্য মূলতঃ এখানেই। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি সে লক্ষ্যপূরণে অতীতে বাংলার তাঁতীদের আঙ্গুল কেটে দিয়েছিল। কারণ,এ তাঁতীদের কারণেই তাদের নিম্নমানের কাপড় বাজার পাচ্ছিল না। ফলে উদ্যোগী হয়েছিল বাংলার বুকে শত শত বছর ধরে গড়ে উঠা বস্ত্র-শিল্পের ধ্বংসে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নব্য উপনিবেশবাদের জন্ম হয়েছিল মূলতঃ তেমনি একটি শোষনমূলক বিশ্বব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকার ধরার সে সামর্থ এখন সীমিত। দেশটির বর্তমান রুগ্নদশা সে সামর্থকে আরো সীমিত করবে। বিশ্বের সকল মজলুম ও শোষিত মানুষের জন্য এটি এক নয়া সম্ভাবনার দিন। কিন্তু তাদেরও কি সে সামর্থ আছে এ সম্ভাবনা থেকে ফায়দা নেয়ার। দীর্ঘকাল খাচায় আটকে থাকার পর দরজা খুলে দিলেও খাঁচার পাখি উড়তে চায় না। দীর্ঘ গোলামী জীবনের এ এক ভয়াবহ কুফল। স্বাধীন হয়ে থাকার জন্য শুধু অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাই মূল নয়,মূল হল আত্মীক স্বাধীনতা। আর সে আত্মীক স্বাধীনতার জন্য চাই দর্শনের পুষ্টি। আফগানরা নিদারুন দরিদ্র হয়েও লড়ে যাচ্ছে তো সে দর্শনের জোড়ে। সাম্রাজ্যবাদ ও তার প্রচার-মাধ্যমগুলো তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে শুধু সম্পদশুণ্যই করেনি,দর্শনশূন্যও করেছে। এতে তাদের দখলদারিত্ব বেড়েছে শুধু রাজনৈতিক ভূগোলে নয়,মনের ভূগোলেও। মার্কিন প্রশাসন ও তার মিত্রদের কাছে আত্মসমর্পণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ মুসলিম বিশ্বের সেকুলার নেতাদের এতটা আনন্দ তো একারণেই। হোয়াইট হাউসের কর্তাব্যক্তির দর্শন-লাভটি তাদের জীবনে গণ্য হয় অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা রূপে। পুজিবাদের মৃত্যু অতি আসন্ন। কিন্তু এরপরও প্রশ্ন হল,তাতে স্বাধীনতা ও আত্মসম্মান ফিরে পাবে কি মুসলিম বিশ্ব? (১৬/১১/০৮ ) লেখকের অন্যান্য লেখার জন্য দেখুনঃ www.firozmahboobkamal.com

 
Banner
------------------------------------ -------Copyright © 2008 firozmahboobkamal.com. All Rights Reserved.