|
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল
|
|
Friday, 26 June 2009 00:38 |
ইরানের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন সে দেশের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ আহমদী নেজাদ। তিনি ইরানের নির্বাচনি ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। নিবার্চনে মানুষের অংশগ্রহনও ছিল অপূর্ব। ভোট দিয়েছে দেশের শতকরা ৮৫ ভাগ ভোটার, জনগণের এমন বিপুল অংশগ্রহনের নজির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনসহ কোন পাশ্চাত্য দেশে নেই। কিন্তু আহমদী নেজাদের এমন বিজয়ে পাশ্চাত্য বিশ্ব খুশি হতে পারেনি। তারা অধির আগ্রহে বিজয়ের অপেক্ষায় ছিল প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী জনাব মীর হোসেন মোসাভীর। তারা আহমদী নেজাদের বিজয় মানতেই রাজী ছিল না। মানতে রাজী ছিল না মীর হোসেন মুসাভী নিজেও। একথা ঠিক, মীর হোসেন মুসাভী বিপুল লোক সমাগম করতে পেরেছিলন তেহরানের রাস্তায়। তেহরান শহরে তিনি প্রায় ৫ লাখ ভেটে জিতেছেনও।
তেহরানে হেরে গিয়ে জনাব আহমদি নেজাদ প্রমাণ করেছেন, নির্বাচনে তিনি কোন কারচুপির আশ্রয় নেননি। কারণ সেটি হলে তার প্রমাণ মিলতে তেহরানে। অপর দিকে জনাব মুসাভী রাজধানীতে তার সমর্থনে বিশাল বিশাল নির্বাচনী জনসমাগম দেখে তিনি ভেবেছিলেন তার বিজয় অনিবার্য। পাশ্চাত্য মিডিয়া বিশেষ করে সিএনএন, বিবিসি, ফক্স নিউজ, সিবিএস, এনবিসি, এবিসি, এমএসএনবিসি মুসাভীর জনসভার সে ছবিগুলো ঘন ঘন দেখাচ্ছিল। অপর দিকে পরিকল্পিত ভাবে বাদ দিয়েছে জনাব আহমদী নেজাদের জনসভার চিত্রগুলি। জনাব মুসাভীর সমর্থনে নেমেছিলেন জনাব রাফসানজানি ও জনাব খাতেমী – এ দুইজন্ই সাবেক প্রেসিডেন্ট। ইরানী রাজনীতির তারা দুই বিশেষ হেভিওয়েট। জনাব রাফসানজানী শুধু ৮ বছর ধরে দেশের প্রেসেডেন্টই ছিলেন না, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পূর্বে তিনি পার্লামেন্টের স্পিকারও ছিলেন। ক্ষমতার শীর্ষে ছিলেন তিনি বহুকাল যাবত। এবং সে শীর্ষস্থান থেকে ক্ষণিকের জন্যও তিনি নামতে রাজী ছিলেন না।পাশ্চাত্য মিডিয়া যে জনাব রাফসানজানিকে অতি শক্তিশালী ব্যক্তি রূপে চিত্রিত করে তার মূল কারণ এখানেই। ইরানের শাসনতন্ত্র মোতাবেক কোন ব্যক্তিই লাগাতর দুইবারের বেশী প্রেসিডেন্ট পদে থাকতে পারেন না। কারো দুইবারের বেশী প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার আগ্রহ জাগলে বিরতি দিয়ে তিনি আবার প্রতিদ্বন্দীতায় নামতে পারেন। রাফসানজানি সে সুযোগ ছাড়েননি। কিন্তু তার সে সাধ পুরণ হতে দেয়নি ইরানের গরমসার জেলায় জন্ম নেওয়া অখ্যাত এক কর্মকার-পুত্র আহমেদী নেজাদ। জনাব আহমেদী নেজাদ তাকে পরাজিত করে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন । তিনি পরাজিত করেছিলেন জনাব খাতেমীর সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থীকেও। সে পরাজয়ের স্মৃতী ভূলতে পারেননি জনাব রাফসানজানী ও জনাব খাতামী। তাই সে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা দুইজনই জনাব মুসাভীকে সমর্থন দেন। জনাব মুসাভীর সাথে জনাব আহমেদী নেজাদের এক নির্বাচনপূর্ব টিভি বিতর্কে জনাব আহমেদী নেজাদ তাই বলেন, আমার প্রতিদ্বন্ধীতা শুধু মুসাভীর বিরুদ্ধে নয়, জনাব রাফসানজানী ও জনাব খাতামীর বিরুদ্ধেও। জনাব রাফসানজানীর নিজের পরিবারের লোকজন বিশেষ করে তার মেয়ে ফায়েজে রাফসানজানি ব্যাপক ভাবে খেটেছেন জনাব মুসাভীর পক্ষে। আহমদী নেজাদ সে বিতর্কে রাফসানজানিকে দূর্নীতিপরায়ণ বিলিওয়নিয়ার রূপে আখ্যায়ীত করেন। এবং এ হুশিয়ারও দেন, তিনি বিজয়ী হলে তার দূর্ণীতির বিচার করে ছাড়বেন।
জনাব রাফসানজানি ও জনাব খাতামীর সমর্থন এবং তেহরানের নির্বাচনী জনসভায় বিপুল জনসমাগম দেখে জনাব মুসাভী তার নিজের বিজয় নিয়ে সুনিশ্চিত হয়ে পড়েন। তিনি যে হারতে পারেন সে সংশয় তার মনে বিন্দুমাত্রও দেখা দেয়নি। এমন আত্মবিশ্বাস তাকে যে কতটা উদ্ধত ও বিবেকশূণ্য করে ফেলে সে প্রমাণ রাখতেও তিনি দেরী করেননি। ভোট গণনা শেষ হওযা অবধি জনাব মুসাভী ধৈর্য ধরতেও রাজী ছিলেন না। গণনা শেষের বহুঘন্টা আগেই নিজেকে বিজয়ী রূপে ঘোষণা দেন। অপর দিকে ভোট গণনায় যখন পরাজিত হন তখন কোন প্রমাণ ছাড়াই ঘোষনা দেন, নির্বাচনে কারচুপি করে তাকে হারানো হয়েছে। অথচ তার হাজার হাজার পলিং এজেন্টের কেউই এ ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। জনাব মুসাভী ও তার সমর্থকেরা জনাব আহমদী নেজাদকে এখন স্বৈরাচারি বলে অভিযুক্ত করছেন। অথচ আহমদী নেজাদের আমলে সরকার-বিরোধী ব্যক্তিবর্গ যে নাগরিক স্বাধীনতা ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে সেটি জনাব মুসাভী যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন ভাবাই যেত না। ভাবা যেত না এমনকি জনাব রাফসানজানি ও জনাব খাতেমীর আমলেও। তিনি ভূলে যান, আহমদীনেজাদের আমলেই জনাব মুসাভী সরকারি টিভিতে আহমদী নেজাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনার সুযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ এনেছেন, ইরানের ভাবমুর্তিকে জনাব আহমদী নেজাদ বিনষ্ট করেছেন। এবং ধ্বংস করেছেন অর্থনীতিকে। নিজে যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এমন সুযোগ কি তিনি তার প্রতিপক্ষকে এক মুহুর্তের জন্যও দিয়েছেন? আবার হেরে যাওয়ার পর বলছেন, তিনিই দেশের প্রকৃত প্রেসিডেন্ট। দাবী তুলেছেন, সরকার ও নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য তার বিজয়কে মেনে নেওয়া। এটি হল তার চরম কান্ডজ্ঞানশূণ্যতা। সে সাথে গণতান্ত্রিক চেতনা বিরোধীও। আহমদী নেজাদ যত ন্যায্য ভাবেই বিজয়ী হোক না কেন সে বিজয় মেনে নেওয়ার জন্য মুসাভী যে বিন্দুমাত্র তৈরী ছিলেন না এটিই হলো তার প্রমাণ। তার অভিযোগ, আহমদী নেজাদের বিজয় একমাত্র কারচুপির মাধ্যমেই সম্ভব, সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। কথা হল, এমন মানসিকতা নিয়ে কি নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাজে। ইরান একটি বিশাল দেশ। সে দেশের আনাচে কানাচে বসবাসকারি কোটি কোটি মানুষ কাকে ভোট দিবে সেটি জনাব মুসাভী তেহরানে বসে কি করে জানবেন? অথচ টাইম পত্রিকা নির্বাচন পূর্বে এক জরীপ চালিয়ে আহমদী নেজাদের বিজয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। অথচ পাশ্চাত্য মিডিয়া সে কথা বলে না। পরাজিত হওয়ার পর জনাব মুসাভী ও তার সমর্থকগণ নাড়া তুলেছে, “আমার ভোট কোথায়?” তার সমর্থকদের ভোট যে আস্তাকুঁড়ে ফেলা হয়নি তারই প্রমাণ, তিনি তেহরানসহ অনেক শহরে জিতেছেন। তাই তিনি এক কোটি তিরিশ লাখ ভোট পেয়েছেন। এ ভোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা তিরিশ ভাগ। কথা হল, নির্বাচনে কারচুপি হলে মুসাভীর দায়িত্ব ছিল সেটি শুরায়ে নেগাহবান বা অভিভাবক কাউন্সিলের সামনে পেশ করা। শুরায়ে নেগাহবানের সদস্যগণ দেশের অতি শ্রদ্ধেয়ভাজন আলেম। তাদের কেউই আহমদী নেজাদের মনোনিত ব্যক্তি নন। কিন্তু জনাব মুসাভী শুধু ভোট বাক্সের উপরই আস্থা হারাননি, আস্থা হারিয়েছেন দেশের বিচার ব্যবস্থা ও শুরায়ে নেগাহবানের উপরও। এবং আস্থা বেড়েছে পাশ্চাত্য মিডিয়ার উপর। মিডিয়ার প্রশ্রয়ে তার পক্ষে তেহরানে রাজপথ ভারি হয়েছে। আর এতে তিনি আস্কারা পেয়েছেন, সংকটের সমাধান রাজপথ থেকে হোক। কথা হল, এটি কি গণতন্ত্রে শোভা পায়? নিজের জনসমর্থণ এখানে ভোটের বাক্সে প্রমাণ করতে হয়। অথচ পাশ্চাত্যের সরকারগুলি ও তাদের মিডিয়া মুসাভীর সে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেই সমর্থণ দিচ্ছে।
জনাব মুসাভী ও তার সমর্থকগণ বুঝতে ভূল করেছেন, ইরান অর্থ শুধু তেহরান শহর নয়। তেহরানের বাইরেও শত শত নগর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ রয়েছে। মুসাভী সেসব জায়গায় বিপুলভাবে হেরেছেন। ফলে নির্বাচনি রায় ঘোষনার পর তেহরানে যেরূপ বিশাল বিশাল মিছিল হয়েছে সেটি ইস্পাহান, তাব্রিজ ও মাশহাদের ন্যায় দেশের অন্যান্য বড় বড় শহরে হয়নি। তেহরান একটি বিশাল শহর, এ শহরে এক কোটির বেশী মানুষের বাস। মুসাভী সেখানে জিতেছেন। ফলে সেখানে তার পক্ষে ৫ লাখ বা ১০ লাখ মানুষ জমা করা কি কঠিন? জনব মুসাভী ও জনাব আহমদী নেজাদের নির্বাচনি জনসভার চিত্রগুলো টিভি চ্যানেলগুলো বিশ্বব্যাপী দেখিয়েছে। দুটি জনসভায় জমা হয়েছিল দুটি ভিন্ন চেতনা ও দুটি ভিন্ন কালচারের মানুষ। ইসলামী চেতনায় অঙ্গিকারবদ্ধ মানুষের ভিড় বেড়েছিল জনাব আহমদী নেজাদের জলসায়। অপরদিকে জনবা মুসাভী নিজের দলে টানতে সমর্থ হয়েছিল বিপ্লববিরোধীদের। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব অনুষ্ঠানের পর সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ ছিল যারা শুরু থেকেই বিপ্লবের বিরোধী ছিল। গত তিরিশ বছরে তাদের সংখ্যা আরো বেড়েছে। ইসলামী মূল্যবোধ, ইসলামি সংস্কৃতি ও পোষাক-পরিচ্ছদ, ইসলামি আইন-আদালত তারা মেনে নিতে পারেনি। জীবন যাত্রায় ও রূচীবোধে তারা পাশ্চাত্যের অতি কাছের লোক ছিল। তেহরানের উত্তরের ধনী এলাকাটি গড়ে উঠেছিল পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দ্বীপ রূপে। জনাব মুসাভীর বড় সফলতা হল পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এ বিশাল সংখ্যক অনুসারীদের নিজের দিকে টানতে পেরেছিলেন। তার নির্বাচনি প্রচারে যোগ দিতে পাশ্চাত্যে বসবাসকারি বহু ইরানীও গিয়েছিল। তারা ইন্টারনেটকে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগিয়েছিল। কিন্তু সে প্রযুক্তি তেহরানের যুবকদের আন্দোলিত করতে পারলেও মফস্বলে প্রভাব ফেলতে পারিনি। জনাব মুসাভী একাজে দেশের গায়ক ও সেকুলার সংস্কৃতিসেবীদেরও ব্যবহার করেছেন। তাদের মনরঞ্জন বাড়াতে এবং সে সাথে নিজের প্রতি সমর্থণ বাড়াতে তিনি তেহরানে খোলা ময়দানে সঙ্গীতের বিশাল আসর বসিয়েছিলেন। পাশ্চাত্য চেতনার এমন মানুষদের সংখ্যা বাড়াতে পাশ্চাত্য দেশগুলোর বিণিয়োগও কম ছিল না। এক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা একটি উজ্বল দৃষ্টান্ত। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিবিসি তার বিদেশী ভাষায় সম্প্রচারের ক্ষেত্রে বাজেট বিপুল ভাবে কমিয়েছে। অনেক ভাষার প্রচার রীতিমত বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু ব্রিটিশ অর্থনীতির এ মন্দার বাজারেও তারা বিশাল বিণিয়োগ করেছে ইরানী জনগণকে সামনে রেখে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাস থেকে বিবিসি ফার্সি ভাষায় টিভি প্রচার শুরু করে। ইরানের জনসংখ্যার চেয়ে ১৫ গুণের বেশী জনসংখা ভারতের। চারগুণ বেশী জনসংখ্যা হল আরবদের। কিন্তু হিন্দি ও আরবী ভাষায় বিবিসির কোন টিভি প্রোগাম নেই। ইরানের গুরুত্ব পাশ্চাত্যের কাছে যে কতটা বিশাল এ হল তার প্রমাণ। কারণ, পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরানই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। অথচ হিন্দুস্থান ও আরববিশ্ব প্রতিরোধ ছেড়ে নেমেছে আত্মসমর্পণে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব এজন্যই এসব দেশে অতি প্রবল। তাছাড়া আধিপত্যবাদী পাশ্চাত্য সাম্রাজ্যবাদের মূল চ্যালেঞ্জ চীন, রাশিয়া ও ভারত যেমন নয়, তেমনি নয় হিন্দু ধর্ম বা বৌদ্ধ ধর্মও নয়। বরং সেটি হল মুসলিম বিশ্ব ও ইসলাম ধর্ম। আর ইরান সে ইসলামী আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধ নিয়েই পাশ্চাত্য আধিপত্যের বিরূদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। আরব দেশগুলো যেখানে ইসরাইলের সাথে আপোষ নিয়ে ব্যস্ত সেখানে ইরান ও সেদেশের প্রেসিডেন্ট আহমেদী নেজাদের সরকার সমর্থণ দিচ্ছে হিজবুল্লাহ ও হামাসকে। ইরানের এরূপ প্রতিরোধমুখি রাজনীতি পাশ্চাত্য মেনে নিতে রাজী নয়। আর সে আপোষকামী রাজনীতির সাথে একমত জনাব রাফসানজানি, খাতামী ও মুসাভী। এজন্যই তাদের সাথে পাশ্চাত্য মিডিয়ার এত সহমর্মিতা। তবে মুসাভীর প্রতি তাদের এ সমর্থণে বিপুল লাভ হয়েছে আহমদী নেজাদের। আসন্ন প্রতিবিপ্লব ঠ্যাকাতে ইসলামপন্থিরা বিপুল ভাবে ময়দানে নেমেছে। ব্যাপক ভাবে ময়দানে নেমে তারা যাদের আপনজনের বিপ্লবে এবং বিপ্লব-পরবর্তী যুদ্ধে লাখে লাখে প্রাণ দিয়েছে। বিপ্লবের ফসল পাশ্চাত্যের অনুগতদের দ্বারা মাঠে মারা যাক, তাদের কাছে সেটি অসহনীয় ছিল। ফলে ভোটের বাক্সে ভোট্ পড়েছে বিপুল হারে। বিশেষ করে মাফাস্বল এলাকায়।
গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার মিত্রদের ধারণা বড় বিচিত্র। এখানে শুধু অবাধ প্রচার, ভোটদান ও সুষ্ঠ ভোটগণনা হওয়াটাই বড় কথা নয়। ভোটের রায় সেসব দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই চলবে না, গ্রহণযোগ্য হতে হবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইসরাইলের ন্যায় তার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছেও। জনগণের রায়কে অবশ্যই পাশ্চাত্য স্বার্থের সহায়ক হতে হবে। বিজয়ী সরকারকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে পাশ্চাত্যের আধিপত্যবাদী দেশগুলোর কাছেও। এজন্যই নব্বইয়ের দশকে আলজেরিয়ায় ইসলামপন্থিদের বিজয় তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আজ তারা তেহরানের রাস্তায় ইরানী পুলিশের তৎপরতা নিয়ে সোচ্চার। অথচ আলজেরিয়ার সেনাবাহিনী যখন সেদেশের ইসলামপন্থিদের বিজয় রুখতে রাস্তায় ট্যাংক নামিয়ে দিল এবং হাজার মানুষকে হত্যা করলো এবং আস্তাকুঁড়ে পাঠালো মানাবাধিকারকে, তখন তারা আনন্দে উৎসব করেছে। সে সাথে সামরিক ও বেসামরিক মদদ পাঠিয়েছে সে স্বৈরাচারি সামরিক জান্তা সরকারের শক্তি বাড়াতে। আহমেদী নেজাদকে তারা আজ স্বৈরাচারি বলছে। অথচ যারা বলছে তারা নিজেরাও নিজ দেশে এতটা জনপ্রিয় নয় যতটা আহমেদী নেজাদ জনপ্রিয় তার দেশে। তাদের গণতন্ত্রপ্রীতির প্রকৃত নমুনা বোঝা যায় বিশ্বের সবচেয়ে জালেম স্বৈরাচারি দেশগুলোর সাথে সদ্ভাব দেখে। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্দান, মিশরসহ আরব বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সরকার বিরোধী মিছিল হলে মিছিলকারীদের প্রাণে বাঁচাই দায়। মরক্কো থেকে বাহরাইন পর্যন্ত কোন আরব দেশটিতে রয়েছে মানবাধিকার? কিন্তু তা নিয়ে কি পাশ্চাত্য সরকারগুলির কোন প্রতিবাদ আছে? আছে কি সামান্যতম অসন্তোষ? বরং আছে অতি নীবিড় সম্পর্ক।
রাফসানজানি, খাতামী ও মুসাভীর প্রতি পাশ্চাত্যের সমর্থন এ নয় যে তারা তাদের সমর্থণ করে। মুসাভী যখন ইরানে প্রধানমন্ত্রী ছিল তখন এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সাদ্দামকে সর্বপ্রকার সাহায্য দিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়তে। এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রও দিয়েছে। আজ তারা তেহরানের রাস্তায় পুলিশী মারপিটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। অথচ ইরান-ইরাক যুদ্ধে ১৫ লাখের বেশী ইরানী হত্যার মূল মদদদাতা ছিল তারাই। তখন মুসাভীকে তারা মৌলবাদী ও পাশ্চাত্য-বিরোধী চিত্রিত করেছিল। রাফসানজানি যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন তখন তাকেও পাশ্চাত্যের দুষমন রূপে চিত্রিত করা হয়েছে। রাফসানজানি, খাতামী ও মুসাভীর প্রতি পাশ্চাত্যের আজকের সমর্থণের মূল লক্ষ্য ইরানের মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে তীব্রতর করা, গনতন্ত্রকে শক্তিশালী করা নয়। আহমদী নেজাদই ইরানের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি তার প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীকে সরকারি টিভিতে বিতর্কের নামে তার নিন্দা করার পূর্ণ ও অবাধ অধিকার দিয়েছেন। কোন মুসলিম দেশে সে নজির নেই। অথচ পাশ্চাত্য মিডিয়ায় সেটি নজরেই পড়েনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর ভাষায় নির্বাচনে শতকরা ৮৫ভাগ মানুষের অংশগ্রহন পাশ্চাত্যের জন্য ভূমিকম্প রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এ নির্বাচন ধ্বসিয়ে দিয়েছে পাশ্চাত্যের সকল ষড়যন্ত্র।
প্রতি সমাজে ও প্রতি দেশে নানা বিষয়ে মতভেদ থাকে এবং সেটি ইরানেও আছে। এ নির্বাচনে সে বিভক্তিও সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। পাশ্চাত্য এখন আত্মনিয়োগ করেছে সে বিভক্তিকে আরো তীব্রতর করতে। পাশ্চাত্য মিডিয়া নিরপেক্ষ নয়, ষড়যন্ত্রমুক্তও নয়। এবং সেটিই প্রকাশ পায় তাদের আচরণ দেখে। ষড়যন্ত্রের সে অংশরূপেই আহমেদী নেজাদের পক্ষ্যের যে কোন বক্তব্যকে পাশ্চাত্য মিডিয়াগুলি সেন্সর করছে। অপরদিকে আহমেদী নেজাদের বিরোধীদের খুঁজে খুঁজে বের করে তাদের বক্তব্যকে ফলাও করে প্রচার করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ভূমিকাও এক্ষেত্রে কম ন্যাক্কারজনক নয়। মাত্র কয়েকে মাস আগে গাজার বন্দী ফিলিস্তিনীদের মাথার উপর যখন শত শত টন বোমা পড়ছিল এবং মারা পড়ছিল শত শত নিরপরাধ শিশু ও নারী পুরুষ তখন সে বর্বরতার নিন্দা জানানোর মত মানবিকতা ওবামার মধ্যে দেখা যায়। আর এখন মহান মানব সেজেছেন ইরানে রাস্তায় পুলিশি তৎপরতার নিন্দায়। অথচ বিক্ষোভকারিরা তেহরানে বহু যানবাহন ও অফিসে আগুন দিয়েছে। যেকোন দেশের আইনে এটি অন্যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এর চেয়ে কম অপরাধে হাজার হাজার মানুষকে গোয়ান্তানামো বে, আবুগারিব ও বাগরামের কারাগারে পাঠিয়েছে ও তাদের উপর কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা সম্প্রতি বলেছেন, তেহরানের রাস্তায় যা কিছু ঘটছে বিশ্ববাসী তা দেখছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, আফগানিস্তান, সোয়াত ও ওয়াযিরীস্তানে যা করছে তা কি মানুষ দেখছে না? কথা হল, বিশ্ব আর কতকাল সাম্রাজ্যবাদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হতে থাকবে?
Bookmark this,
|
|
Brother
I read all yours articles. Your Islamic knowledge tell us, you are so close to Quran and Sunnah. Your writing ability so nice, every reader will not go empty heart. Their hearts and minds will be touched by your articles. If they read your articles. Allah gave you best writing ability. Please keep doing. May Allah give you long life. This is my prayer to Allah.