Home ইসলাম শরিয়ত প্রতিষ্ঠা এত অপরিহার্য কেন?
ইসলাম
শরিয়ত প্রতিষ্ঠা এত অপরিহার্য কেন?
ইসলাম

সর্ব অর্থেই বাংলাদেশ এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র। মেরুদন্ডহীন অর্থনীতি, বিধস্ত শিল্প, দূর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন, অকার্যকর শিক্ষা, ভেসে যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা - সবকিছুই এ ব্যর্থতার প্রমাণ। মৃত্যুমুখী রোগী যেমন দিন দিন নিস্তেজ হয়, তেমনি নিস্তেজ হচেছ বাংলাদেশ। ৫০ পঞ্চাশ বছর পূর্বেও অবস্থা এমনটি ছিল না। মরুর পথহারা পথিক যেমন ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় তেমনি অবস্থা বাংলাদেশের। অথচ এ জাতির কাছে মুক্তির নির্ভূল পথ ছিল। এবং সেটি শরিয়ত। এটি হলো আল্লাহর দেওয়া রোড ম্যাপ। কিন্তু ইসলামে অঙ্গিকারহীন সেকুলার পক্ষটির কারণে আল্লাহর এ শ্রেষ্ঠ নিয়ামতটির প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতাও এক্ষেত্রে কম নয়। বিশ্বের অন্য কোন দেশে এত নামাজী নেই, এত মসজিদ-মাদ্রাসাও নেই। নেই এত আলেম-উলামা। বাংলাদেশের আলেম-উলামাদের সংখ্যাই খোলাফায়ে রাশেদার আমলের মুসলমানদের চেয়ে অধিক।

কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়, ৯০ ভাগ মুসলমানের এ দেশটিতে শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত নেই। অথচ শরিয়ত হলো মুক্তির রাজপথ বা সিরাতুল মোস্তাকিম। এটির প্রতিষ্ঠিত না থাকার অর্থ, সঠিক পথ ছেড়ে বিপদসংকূল জঙ্গল দিয়ে পথ চলা। সভ্য মানুষ কোথাও বসতি গড়লে শুধু ঘর নয়, রাস্তাও গড়ে। রাস্ত ায় সিগনাল পোষ্টও স্থাপন করে। সে সিগনালগুলী মানতে হয়, নইলে পথ চলায় বিভ্রান্তিআসে, দূর্ঘটনায় প্রাণনাশও হয়। তেমিন ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য, শ্লিল-অশ্লিল, কল্যাণ-অকল্যাণ এরূপ হাজারো পথের মোহনায় প্রতিনিয়ত দাঁড়াতে হয় প্রতিটি মানুষকে। কোন দিকে যেতে হবে সে পথটি নিজে আবিস্কার করতে গেলেই মহাবিপদ। কারণ সে সামর্থ মানুষকে দেওয়া হয়নি। এমনকি নবীদেরও নয়। আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ’ইন্না আলাইনা লাল হুদা’ অর্থাৎ পথ দেখানোর দায়িত্ব আমার। মানুষকে যে সামর্থ দেয়া হয়েছে সেটি হলো এটির অনুসরণের। আর আল্লাহ-প্রদর্শিত এ পথটির ইসলামী পরিভাষা হলো শরিয়ত। রাষ্ট্রে শরিয়ত প্রতিষ্ঠা না পেলে জনগণ সঠিক পথ পায় না। এজন্য মুসলমানেরা রাষ্ট্র গড়লে রাষ্ট্র জুড়ে শরিয়তও প্রতিষ্ঠা করে। এ দায়িত্বটুকু প্রতিটি মুসলমানের। (বিস্তারিত)

Comments (1)
1 Monday, 08 September 2008 00:00
Mohammed Al-Amin

আসসালামুয়ালাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।আশা করি আল্লাহর মেহেরবানীতে ভালো আছেন।আমি ভালো আছি।ভাই আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা আমি গত কয়েকদিন আগে পেয়েছি।তারপর ভিজিট করেছি আপনার সাইটি খুবই ভালো লেগেছে।আশা করি আপনার লেখা অব্যাহত থাকবে।আমার একটা প্রশ্ন সেটা হলো ইসলামী সংগঠন করা ফরজ সেক্ষেত্রে আপনার ভুমিকা কি জানালে উপকৃত হবো।আল্লাহ আপনার সহায় হোন।মাআসসালাম। আল-আমীন রিয়াদ সাউদী আরব।

Owner's reply:
Wednesday, 10 September 2008 00:00
Firoz Mahboob Kamal

প্রিয় ভাই আল-আমিন, ওয়ালাইকুম ওয়াস্‌সালাম। আল হামদুলিল্লাহ যে ওয়েবসাইট আপনার ভাল লেগেছে। শুকরিয়া আপনার দোয়ার জন্য। আপনি লিখেছেন, সংগঠনে যোগ দেওয়া ফরজ। এবং এ বিষয়ে আমার ভূমিকা জানতে চেয়েছেন। ইসলামে যেটি ফরয সেটি হল মুসলমানদের মাঝে একতা গড়া। সে ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালার সুস্পষ্ট ঘোষণা এসেছে এভাবেঃ ‘‘এবং তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আল্লাহর রশি বলতে এখানে কোরআনকে বা ইসলামকে বুঝানো হয়েছে। তাই মুসলিম উম্মাহর মাঝে একতা গড়া এবং একতার লক্ষ্যে যে কোন প্রচেষ্টাই ইবাদত। তেমনি বিচ্ছিন্নতার যে কোন প্রয়াসই হারাম। একতা গড়ার এ লক্ষ্যে মুসলমানগণ শুরু থেকেই জামাত বা দল গড়েছেন। নবীপাকের (সাঃ) সময় মাত্র একটি দল ছিল এবং কিন্তু পরবর্তীতে শত শত দল সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এতে ঐক্য না বেড়ে বরং অনৈক্য বেড়েছে। ঐক্য গড়ার কাজ কোন সংগঠনের মাধ্যমে যেমন হতে পারে তেমনি সংগঠনের বাইরেও হতে পারে। উপমহাদেশের মুসলমানদের মাঝে একতা গড়ার সবচেয়ে বড় কাজটি এক সময় যিনি করেছিলেনর তিনি হলেন মাওলানা মোহাম্মাদ আলী জাওহার। তিনি কোন রজনৈতিক দল না গড়েই উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্ব প্রথম সবচেয়ে বড় গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। এবং সেটি হল খেলাফত আন্দোলন। তিনি নানা ভাষা ও নানা মজহাবের মুসলমানদের বেঁধেছিলেন সম-চেতনার বাঁধনে। একতা গড়তে তিনি মিডিয়াকে ব্যবহার করেছিলেন। তার দুটি পত্রিকা কমরেড ও হামদর্দ সে সময় বিরাট কাজ করেছিল। লিখনীর মাধ্যমে তৎকালীন মুসলমানদের চেতনা রাজ্যে তিনি বিপুল জাগরণ এনেছিলেন। বস্তুতঃ পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল তার গড়া প্যান-ইসলামিক চেতনার প্রেক্ষাপটেই। অথচ সে সময়ও বহু সংগঠন ছিল। কোন একটি সংগঠনে যোগ দিলে তার পক্ষে নানা দলের মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর কাজটি কি সহজ হত? বরং সে সময়ও আজকের মত বড় বড় সমস্যাগুলি জন্ম দিয়েছিল তৎকালীন সংগঠনগুলো। তাই তিনি সংগঠনের বাইরে থেকে প্রচন্ড কাজ করেছিলেন। তাঁর আগে একই ভাবে একতার কাজ করেছিলেন মাওলানা জামাল উদ্দিন আফগানী। তাঁর কাজের পরিধি ছিল আরো বিশাল। সেটি ছিল মুসলিম বিশ্বজুড়ে। কোন রাজনৈতিক দল না গড়েও যে কোটি কোটি মুসলমানদের সংগঠিত করা যায় এবং বিপ্লবও গড়া যায় তার আরেক উদাহরণ হল ইমাম খমেইনি। যখন মানুষের জীবন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হয় তখন একই ময়দানে জমায়েত হতে আর বাঁধা থাকে কি? তবে তোমরা তিন জন থাকলেও একজন নেতা নির্বাচিত করে নাও-এ হুকুমটি পালন করেছেন তারা সামাজিক পর্যায়ে। এ হুকুম পালনের জন্য হাজার হাজার লোকের সংগঠনে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। আজও বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকে প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে শুধু মুসলমানদের মাঝে একতা গড়া নয়, বরং মুসলিম সংগঠনগুলির মাঝেও একতা গড়া। কোন দলে যোগ দিলে কি সে সুযোগ থাকে? কারণ এতে ভিন্ন মতের মানুষ ও সংগঠনের মানুষের সাথে দূরত্ব বাড়ে। মানুষ একটি ক্ষুদ্র পরিবারের সদস্য হয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে পারে। তেমনি ৭/৮ জনের এক সংগঠনের সদস্য হয়েও দেশ জুড়ে একতা ও বিপ্লবের পক্ষে বিরাট কাজ করতে পারে। তাছাড়া যে ব্যক্তিটি একটি দেশের অনেক গুলো পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করেন - যার অনেকগুলিই দলীয় - সে যদি কোন একটি বিশেষ দলের ক্যাডার হয় তবে সে সুযোগ কি তার থাকে?

তাছাড়া প্রত্যেককে নিজ সামর্থ অনুযায়ী পরিকল্পনা নেওয়া উচিত। এজন্য ব্যক্তিকে আবিস্কার করতে হবে তার নিজের প্রতিভাকে। আমরা সবাই একই টিমের খেলোয়াড়। টিমটি হল মুসলিম উম্মাহ। এ টিমে সবার কি সেন্টার ফরওয়ার্ডে খেলার সামর্থ থাকে? তেমনি সবার কি সামর্থ থাকে কোন দলের ক্যাডার হওয়ার? তাছাড়া কোন সংগঠনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তির নিজের উপর নির্ভর করে না। বহুলাংশে নির্ভর করে যে সংগঠনে যোগ দিবেন সে সংগঠনের নেতাদের ইচ্ছা ও আগ্রহের উপর। অনেকটা সেনা বাহিনীতে প্রবেশের মত। সেনাবাহিনীতে সবাই যোগ দিতে পারে না, সে জন্য বিশেষ যোগ্যতা, বয়স ও রুচী চাই। কোন ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য সামর্থ থাকতে হয় দলের জন্য লাঠি ধরা, নিয়মিত অর্থদান বা ভোট জোগারের। তাছাড়া আরেকটি যোগ্যতাও অবশ্যই থাকতে হয়। সেটি হল, দলের নেতা যত অযোগ্য বা অশিক্ষিতই হোক এবং দলের পলিসি যতই ভূল হোক তার প্রতিবাদ না করে প্রতিপদে নিঃশব্দ সমর্থনের। অর্থাৎ দলে যোগদানের আগে নৈতিক মেরুদন্ডটিকে আগেই বিদায় দিতে হয়। যাদের এ সামর্থগুলো নেই কোন দলে কি তাদের আদৌ কোন মূল্য থাকে?

এর পর সমস্যা হল বাংলাদেশের ইসলামি সংগঠনগুলি নিয়ে। এসব সংগঠনের নেতাগণ সংগঠন গড়া ফরয বললেও মুসলমানদের মধ্যে একতা গড়া ফরয রূপে গণ্য করেন না। তাই বাংলাদেশের বামপন্থি, ভারতপন্থি ও জাতিয়তাবাদী শিবিরে যে একতা আছে তা ইসলামপন্থিদের মাঝে নেই। এসব ইসলামি সংগঠনের কাছে উম্মাহর স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থটা বড়। এমপি হওয়া, মন্ত্রী হওয়া তাদের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে স্বার্থের খাতিরে প্রয়োজনে তারা ইসলামে অঙ্গিকারহীন স্যেকুলারদের সাথে একতা গড়তে রাজী। তাদের সাথে আন্দোলনে যেতেও রাজি। কিন্তু একতার গড়ার তেমন আগ্রহ নেই অন্যান্য ইসলামি সংগঠনগুলির সাথে।

সংগঠন গড়তে হবে মুসলমানদেরকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে। এটি ইবাদত। কিন্তু সংগঠন যদি পরিণত হয় সংগঠনের নামে বিভক্তির গড়ার মাধ্যম তবে সেটি ইবাদতের পরিবর্তে ফেতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে বৃহৎ বৃহৎ ইসলামি সংগঠনগুলো মুসলমানদের মাঝে বিভক্তিকেই যেন গভীরতর করছে। যাইহোক এব্যাপারে অনেক কথা বলা হয়ে গেল। আপনার আরো প্রশ্ন থাকলে জানালে পরে আলোচনা করা যাবে।

 
Banner
------------------------------------ -------Copyright © 2008 firozmahboobkamal.com. All Rights Reserved.