Home ইসলাম কাঙ্খিত লক্ষ্যে কতটুকু সফল হচ্ছে রোযা?
ইসলাম
কাঙ্খিত লক্ষ্যে কতটুকু সফল হচ্ছে রোযা?
ইসলাম
Saturday, 18 October 2008 02:48

রোযার লক্ষ্য কি শুধু এটুকু, মানুষ সকাল থেকে সন্ধা অবধি পানাহার বন্ধ রাখবে? তারাবিহ পড়বে এবং কোরআন তেলাওয়াত করবে? এবং রমযান শেষে মহা ধুমধামে ঈদ উদযাপন করবে? কত হাজার মাইল পথ চলল সেটিই কি পথিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? তার সাফল্য যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ তো হল, সে তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে আদৌ পৌঁছল কিনা। রোযার মূল লক্ষ্য, তাকওয়া অর্জন। আল্লাহতায়ালা সে লক্ষ্যটি ব্যক্ত করেছেন এভাবেঃ ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)। উপরোক্ত আয়াতে যেটি সুস্পষ্ট তা হল, তাকওয়াই রোযার মূল কথা। প্রশ্ন হল, তাকওয়া বলতে আমরা কি বুঝি?

তাকওয়া অর্থ ভয়। তবে সে ভয় এমন নয় যে, হঠাৎ বাঘের সামনে পড়া ভীতিগ্রস্থ ব্যক্তির ন্যায় বাকশূণ্য করবে। সে ভয় এমনও নয় যে, হঠাৎ গভীর সমুদ্রে পড়া ব্যক্তির ন্যায় আতংকিত ও বিচলিত করবে। তাকওয়া হল আল্লাহ-সচেতনতার এমন এক মানসিক অবস্থা যা পাপ থেকে ফেরায় এবং সদাসর্বদা প্রেরণা জোগায় নেক-আমলে। তখন বেড়ে উঠে পরকালের ভয় এবং জন্ম নেয় আল্লাহকে খুশী করার সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা। সৃষ্টি করে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহীতার চেতনা। এমন চেতনায় জীবনের প্রতিটি দিন ও প্রতিটি মুহুর্ত মনে হয় আল্লাহর অমূল্য নেয়ামত, গণ্য হয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাপর্ব রূপে। তখন বিরামহীন ব্যস্ততা বাড়ে সে পরীক্ষায় কি করে কৃতকার্য হওয়া যায় তা নিয়ে। তাই তাকওয়া নিছক ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও যৌনতাকে দমিয়ে রাখার সামর্থ নয়, বরং সর্ব প্রকার জৈবিক, আত্মীক ও আর্থিক কুপ্রবৃত্তি দমনের ঈমানী শক্তি। এমন তাকওয়া থেকেই প্রেরণা আসে আল্লাহপাকের হুকুমগুলি জানার এবং সে সাথে সেগুলি অনুসরণের। এমন তাকওয়া-সম্পনড়ব ব্যক্তি অদম্য অনুপ্রেরণা ও দায়িত্ববোধ পায় আল্লাহর সৈনিক রূপে ইসলামের বিজয়ে পূর্ণ আত্মবিণিয়োগে। নবীজীর (সাঃ) আমলে সে সামর্থ পেয়েছিলেন প্রতিটি সাহাবা। তাদের জীবনভর প্রচন্ড তাড়াহুড়া ছিল বেশী বেশী নেক আমলের। নেক আমলের প্রেরণায় তারা এতটাই অস্থির থাকতেন যে, মাঝ রাতে না ঘুমিয়ে আটার বস্তা কাঁধে নিয়ে গরীবের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। চাকরকে উটের পিঠে চড়িয়ে নিজে রশি ধরে টেনেছেন। সে কাজ করেছেন এমন কি রাষ্ট্রের প্রধান তথা আমীরুল মো’মিনুনও। তারা নিজেরা অভূক্ত থেকে মেহমানকে খাইয়েছেন। তখন নেক আমলের প্লাবন এসেছিল সমগ্র সমাজ জুড়ে। এভাবে গড়ে উঠেছিল মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা। (বিস্তারিত)

Comments (1)
1 Tuesday, 14 October 2008 00:00
Abdullah Shahid

আপনার প্রবন্ধগুলো খুবই চমৎকার। আমি পড়ে যথেষ্ট উপকৃত হয়েছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা তিনি আপনাকে আরো বেশী করে লিখে মুসলিম উম্মাহ-কে সতর্ক করার তাওফীক দিন। আপনার দীর্ঘায়ু ও দু জাহানের কল্যাণ কামনায়, আব্দুল্লাহ শহীদ

 
Banner
------------------------------------ -------Copyright © 2008 firozmahboobkamal.com. All Rights Reserved.