|
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল
|
|
Thursday, 01 January 2009 13:09 |
অনেক মুসলমানও পাশ্চাত্যের নীতিকে ধর্ম-নিরপেক্ষ বলে প্রশংসায় বিভোর। তাদের যুক্তি, পাশ্চত্য দেশগুলীতে নামায-রোযার স্বাধীনতা রয়েছে। রয়েছে মসজিদ ও মাদ্রাসার গড়ার স্বাধীনতা। রয়েছে ধর্মীয় লেবাস পড়ে রাস্তায় চলাফেরা ও ধর্মীয় উৎসব পালনের স্বাধীনতাও। পাশ্চাত্য দেশের অনেক সরকার মসজিদ গড়ার জন্য জমি দেয়, এমনকি অর্থও দেয়। তারা আরো উল্লসিত যে, রোযার মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে মুসলিম নেতাদের ইফতারির দাওয়াত দেয় এবং ঈদের দিনে বাণীও দেয়। যে কারণে তারা পাশ্চাত্যে এ আচরণে প্রশংসায় সোচ্চার তার মূল কারণ মূলতঃ একটিই। আর তা হল অজ্ঞতা। আর সে অজ্ঞতা যেমন ইসলামের মূল শিক্ষা নিয়ে, তেমনি ইসলামের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের মূল এজেন্ডা নিয়ে। অজ্ঞতার কারণেই তারা ইসলামকে অন্যান্য ধর্মের সাথে এক করে ফেলে। পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রগুলো ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে বিভিন্ন ধমের্র অনুসারিদের যে অধিকার দেয় সেটি উদার নয়, উম্মূক্তও নয়।
|
|
Read more...
|
|
|
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল
|
|
Friday, 12 December 2008 20:42 |
বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ রূপে পরিচিত হলেও, দেশটিতে যে চেতনা বা মতবাদটি বিজয়ী সেটি ইসলাম নয়। আইন রূপে যে বিধিমালা আদালতে প্রতিষ্ঠিত সেটিও আল্লাহর আইন নয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংক-বীমা ও সাধারণ মানুষের প্রাত্যাহিক জীবনে যে আচার, রীতিনীতি বা সংস্কৃতিটি বিজয়ী সেটিও ইসলামী নয়। বাংলাদেশে বিজয়ী জীবনদর্শনটি হল সেকুলারিজম। তবে দেশটিতে সেকুলারিজম যেভাবে ধর্ম-নিরপেক্ষতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে শব্দটির প্রকৃত অর্থ তা নয়। সেকুলারিজমের এটি এক ভূল, বিভ্রান্তিকর এবং সে সাথে প্রতারণামূলক ব্যাখা। ধর্ম নিয়ে সেকুলারিজম যেমন নীরব নয়, তেমনি নিরপেক্ষও নয়। সেকুলারিজমের আভিধানিক অর্থ হল ইহজাগতিকতা। এটি হল এমন এক বিশ্বাস বা চেতনা যা শিক্ষা, সাহিত্য, সংগঠন ও রাজনীতির ক্ষেত্রে ধর্মের কোন ভূমিকা ও প্রভাবকে স্বীকার করে না।
|
|
Read more...
|
|
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল
|
|
স্যেকুলারারিজম বলতে আমারা কি বুঝি? স্যেকুলারিজমের বিপদই বা কোথায়? বাংলাদেশের ন্যায় একটি মুসলিম দেশের প্রেক্ষাপটে এ দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ এর সাথে জড়িত শুধু বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দূরাবস্থাই নয়, বরং দেশটির কোটি কোটি নারী-পুরুষের ভবিষ্যৎ। জড়িত শুধু পার্থিব সাফল্যই নয়, অনন্ত আখেরাতের কল্যাণও। স্যেকুলারিজমের অভিধানিক অর্থ হলো ইহজাগতিকতা। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতের এর মূল প্রয়োগ হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা বোঝাতে। অথচ এটি হলো সেকুলারিজমের সম্পূর্ণ ভূল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা যা পেশ করা হয়েছে নিছক ইসলামবিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক স্বার্থে। স্যেকুলারিজম আদৌ ধর্ম নিরপেক্ষ নয়, বরং দেয় এক প্রচন্ড ধর্মবিরোধী ধারণা।
|
|
Read more...
|
|
বাংলাদেশসহ প্রতিটি মুসলিম দেশে মুসলমানদের বড় বিপদ এ নয় যে মানুষ দলে দলে হিন্দু, খৃষ্টান বা বৌদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং বিপদের মূল কারণ, সেকুলারিজম ও অসংখ্য সেকুলার প্রতিষ্ঠান। এগুলির মুল লক্ষ্য হলো জনগণের চেতনা থেকে পরকালের স্মরণকে দূর করা। এবং জীবনকে পার্থিব বা ইহকালমুখি করা। অথচ যারা মুসলমান তাদের সমগ্র জীবনই হলো পরকালমুখি। তাদের ধর্মকর্ম, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও যুদ্ধবিগ্রহসহ সকল কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হয় পরকালে জবাব দিতে হবে সে ভীতি থেকে। পার্থিব জীবনকে ভাবে পরকালীন কল্যাণ লাভে বিণিয়োগের ক্ষেত্ররূপে। ফলে পরকালের চেতনা লোপ পেলে তখন সে ধর্মে অঙ্গিকারশূন্য হতে বাধ্য। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জীবনের অন্যান্য অঙ্গনে তখন প্রকাশ পায় ইহজাগতিকতা। ফলে ধর্মে অঙ্গিকারহীন হয় রাজনীতি। এজন্যই কোন মুসলিম দেশে সেকুলারিজম প্রতিষ্ঠা পেলে ইসলামের চেতনা-বিনাশ অনিবার্য। তখন মানুষ পরিণত হয় নিছক ভোগবাদী জীবে।
|
|
Read more...
|
|
|
বাংলাদেশের স্যেকুলার মাঝে ইসলাম-ভীতি আজকের নয়, শুরু থেকেই। শেখ মুজিবের মগজেও সে ভয় ছিল প্রচন্ড। ইসলামপন্থিদেরকেই তিনি তারা মূল শত্রু মনে করতেন। ফলে আইন করে তিনি ইসলামী দলগুলোর উত্থানকে রহিত করেছিলেন। চিত্তরঞ্জন সুতারদের মত ভারতীয় দালাল-ঘাতকদের আওয়ামী টিকিটে তিনি এমপি বানিয়েছেন। নাস্তিক কম্যিউনিষ্ট, সমাজতন্ত্রি, জাতিয়তাবাদী, এমনকি দেহব্যবসায়ীদেরও সংগঠিত হওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন -যাতে তারা নিজ কর্ম, আদর্শ ও দূষীত জীবনবোধের প্রসারে আত্মনিয়োগের সুযোগ পায়। কিন্তু যারা ইসলামের বিজয় ও গৌরব বাড়াতে শ্রমদান, অর্থদান ও আত্মদানকে অতি পবিত্র ও অলংঘনীয় দায়িত্ব মনে করেন তাদেরকে সে সুযোগ দেননি। ইসলামী দলের স্থাপনা বা ইসলামের নামে কোন আন্দোলন গড়ে তোলাকে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করতে তিনি আইন প্রণোয়ন করেন।
|
|
Read more...
|
|
স্যেকুলারদের দাবী, তারা ধর্ম-বিরোধী নয়। তারা নিরপেক্ষ। এটি অসত্য এবং নিছক এক প্রতারণা। এটি তাদের মূল লক্ষ্যকে আড়াল করার কৌশল। একটি মুসলিম দেশে ইসলাম বিরোধী প্রকল্পের মূল কথাটি খোলাখোলি বলার সাহস নেই বলেই তারা এরূপ নিরপেক্ষতার ভান করে। রাজনীতির ময়দানে এমন ছলনাকে তারা জায়েজও মনে করে। মুসলমানের সকল কর্ম ও ধর্ম পরাকালমুখি। পথচলায় প্রতিটি পদক্ষেপই ফেলা হয় মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে। যে পূব দিকে যায় সে কখনই তাই পশ্চিমে পা রাখে না। তেমনি অবস্থা তাই জীবনের আসল পথচলাতেও। আখেরাতমুখী মানুষের জীবনটি এজন্যই ইহজাগতিক মানুষ থেকে তাই ভিন্নতর হয়। এখানে সার্বক্ষণিক কাজ পরকালে সফল হওয়ার চেতনা। অথচ পরকালের সে চেতনা সেকুলারদের রাজনীতি এবং শিক্ষা-সংস্কৃতিতে অপ্রাসঙ্গিক। বরং তারা চায়, পরকালমুখি জীবনের সে গতিধারাকে ঘুরিয়ে দিতে। এভাবে সুস্পষ্ট ভাবে তারা একটি পক্ষ নেয়, অতএব তাদেরকে কি নিরপেক্ষ বলা যায়? আগুনকে তার উত্তাপ থেকে কখনই আলাদা করা যায় না। সেটি বিলুপ্ত হয় একমাত্র নেভানোর পর। তেমনি অবস্থা একজন মুসলমানেরও। যেখানেই সে যায় ঈমানকে সে সাথে নিয়েই যায়। তাই মুসলমানের ইবাদত-বন্দেগী ও পোষাক-পরিচ্ছদের পাশাপাশি তার রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতির মাঝেও প্রকাশ পায় ঈমানের উত্তাপ। প্রকাশ পায় পরকালমুখিতা। কিন্তু স্যেকুলারদের দাবী, মুসলমানকে রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সাহিত্য, আইন-আদালত ও জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হবে ইসলামের প্রচার বা প্রকাশ না ঘটিয়েই। কিন্তু সেটি কি সম্ভব? সেটি একমাত্র সম্ভব ঈমানের সে আগুনকে নিভিয়েই। স্যেকুলার রাজনীতিতে তাই মুসলমানের ঈমান বাঁচেনা। মুসলমানের রাজনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি তো আজীবনের। জায়নামায বা মসজিদের মেঝেতে কি সেটিকে সীমাবদ্ধ করা যায়? বিদ্যুতের সুইচ অন-অফ করার ন্যায় সেটি বার বার জ্বালানো বা নিভানোর বিষয়ও নয় যে রাজনীতি থেকে জায়নামায এবং জায়নামায থেকে রাজনীতি এরূপ প্রতিবার অন-অফ করবে।
|
|
Read more...
|
|
সত্য-অসত্য, ন্যায়-অন্যায় এবং ইসলাম ও অনৈসলামের দ্বন্ধ নিত্যদিনের। রাজনীতি, সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তি তথা সর্বক্ষেত্রে এর বিস্তার। এটি ঘটে কখনও সরবে, কখনও নীরবে, আবার কখনও বা অতি সহিংস ভাবে। কথা হলো এত দ্বন্ধের মাঝে কি নিরপেক্ষতা চলে? অন্যায়কে ন্যায়ের, অসত্যকে সত্যের সমকক্ষতা দিলে কাউকে কি ন্যায়পরায়ণ বলা যায়? এমন নিরপেক্ষতা মিথ্যার পক্ষে যেমন পক্ষপাতিত্বই, তেমনি প্রচন্ড প্রতারণাও। ইসলাম ও অনৈসলামের দ্বন্ধে নিরপেক্ষতা মূলতঃ কবীরা গুনাহ। মুসলমানের উপর ফরয শুধু এ নয় যে শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।
|
|
Read more...
|
|
|
|
|
|